• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 16 July, 2026

জাল নথি ও মানবপাচার চক্রের খোঁজে বাংলা-সহ ১৩ জায়গায় ইডির তল্লাশি

এই তদন্তের সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের মানবপাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত থেকে

জাল নথি ও মানবপাচার চক্রের খোঁজে বাংলা-সহ ১৩ জায়গায় ইডির তল্লাশি

Enforcement Directorate Raid Photo-SNS

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং মানবপাচারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১৩টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন জড়িত। সেই অর্থের উৎস, জাল নথি তৈরির নেটওয়ার্ক এবং এর মূলচক্রীদের খুঁজতেই এই অভিযান। বৃহস্পতিবার কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। একই সঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানেও অভিযান চালানো হয়।

ইডি সূত্রের দাবি, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সংগঠিতভাবে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড এবং ই-শ্রম কার্ডের মতো নথি তৈরি করে দেওয়া হত। পরে ওই নথির সাহায্যে এবং দালালদের মাধ্যমে তাঁদের দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে পাঠানো হত।

এই তদন্তের সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের মানবপাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত থেকে। তদন্তে কলকাতার এক ব্যক্তির নাম সামনে আসে। এরপর উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদে জাল নথি তৈরির বড় চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য উঠে আসে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আদালতেও দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছিল।

তদন্তে আরও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামও সামনে এসেছে বলে ইডি সূত্রে দাবি। অভিযোগ, কিছু সংস্থার আড়ালে জাল নথি তৈরির পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা হত। তদন্তকারীদের দাবি, লেনদেন গোপন রাখতে বহু ক্ষেত্রে অন্যের বা তথাকথিত ‘ভাড়ার’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ছোট ছোট অঙ্কে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে পুরো লেনদেনের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ ইডির।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে বহু কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চলেছে এবং তার গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। সেই কারণেই এই অভিযানে আর্থিক লেনদেন, জাল নথি তৈরির নেটওয়ার্ক এবং মানবপাচারের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশ থেকে মহিলা ও নাবালিকা পাচারের অভিযোগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ বনগাঁ-সহ সীমান্তবর্তী এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই তদন্তেও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত একটি জাল নথি তৈরির নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে এসেছিল।