১২টি কৃষ্ণপক্ষ এবং ১২টি শুক্লপক্ষ নিয়ে একটি বছর গঠিত হয়। আর তার মধ্যে শরতের জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকে বাঙালি। মহালয়ার অমাবস্যা পেরিয়ে শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে কোজাগরী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই পনেরো দিনকে বলা হয় দেবীপক্ষ (Durga Puja)। আর এই পক্ষেই আয়োজিত হয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো।
তবে মহালয়া মানেই দেবীপক্ষের শুরু, এমন ধারণা ঠিক নয়। আসলে মহালয়া হল পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ। পিতৃপক্ষের শেষ তিথি অমাবস্যার নামই হল মহালয়া। অমাবস্যার তিথি যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণই পিতৃপক্ষ। অমাবস্যা শেষ হয়ে শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকেই শুরু হয় দেবীপক্ষ (Durga Puja)।
দেবীপক্ষ মূলত দেবী আরাধনার সময়। এই পক্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকেই শুরু হয় শারদ নবরাত্রি। এই দিন থেকেই দেবীর বিভিন্ন রূপের আরাধনা শুরু হয়। অনেক বাড়িতে দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে চণ্ডীপাঠ হওয়ার রীতিও প্রচলিত রয়েছে।
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পক্ষেই দেবী দুর্গা (Durga Puja) মহিষাসুরকে পরাজিত করে ত্রিলোক রক্ষা করেছিলেন। তাই দেবীপক্ষের প্রতিটি দিনই মাতৃশক্তির আরাধনার জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: হাওড়ার দু’হাতের অভয়া দুর্গা, যেখানে আজও রয়েছে মহিষ বলির প্রথা
দুর্গাপুজোর (Durga Puja) মূল চার দিন ষষ্ঠী থেকে নবমী-দেবীপক্ষের মধ্যেই পড়ে। দেবী দুর্গার (Durga Puja) আরাধনার পর দেবীপক্ষের সমাপ্তি ঘটে কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার মাধ্যে দিয়ে।
অর্থাৎ পিতৃপক্ষের অবসান পেরিয়ে যখন শুরু হয় মাতৃশক্তির আরাধনা, তখনই আসে দেবীপক্ষ। দেবী ও মাতৃশক্তির উপাসনাকে কেন্দ্র করেই এই বিশেষ পক্ষের নাম হয়েছে দেবীপক্ষ। আর দেবীপক্ষের জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকে বাঙালি।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=ZW2pqpR7QXVdYIro” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>