• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 2 August, 2026

বীরভূমের ৮টি অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের নোটিস জারি, কড়া নজর প্রশাসনের

মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাসের নেতৃত্বে দেওয়ানগঞ্জ মৌজায় তদন্ত শুরু হয়

বীরভূমের ৮টি অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের নোটিস জারি, কড়া নজর প্রশাসনের

Illegal Stone Mines Photo-SNS

পাথর খাদান নিয়ে এবার সক্রিয় হলো রাজ্য প্রশাসন। বিশেষ করে এবার নজর দেওয়া হলো বীরভূমে। কারণ এখানেই টুলু মণ্ডলের বিশাল বেআইনি সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে পুলিশ। সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ থেকে শুরু করে ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। বীরভূমে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিশাল সাম্রাজ্যের হদিশ পেয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। এখন কোথায়, কত সম্পত্তি আছে টুলু মণ্ডলের তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কারণ টুলু মণ্ডলের পাথর খাদানও অবৈধ ছিল। তাই সেসব তদন্তের সঙ্গেই বীরভূম জেলার অবৈধ খাদানগুলির দিকে কড়া নজর দিয়েছে প্রশাসন। একের পর এক পাথর খাদান বন্ধ করার নোটিস জারি করা হয়েছে। বীরভূম জেলা প্রশাসন আটটি অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের নোটিস জারি করেছে।

কোটি কোটি টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না দেখে রাজ্যবাসীর চোখ কপালে উঠেছিল। তখনই সামনে আসে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। বেআইনি পথে বিপুল সম্পত্তি করে বিদেশে গা-ঢাকা দিয়েছে। এই টুলু মণ্ডলের আসল নাম নাজিবুদ্দিন মণ্ডল। এই টুলু মণ্ডলের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। টুলু মণ্ডলের কালো টাকা এবং সম্পত্তি রাখতে দেওয়া হয়েছিল মিনার মণ্ডলের কাছে। এই আবহে দুবাইয়ে মেয়ে-জামাইয়ের কাছে গিয়েছে টুলু। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের পার্কিংয়ের জমির মধ্যে রয়েছে সরকারি খাস জমিও। টুলুর পাথরের ব্যবসার কোনও ট্রেড লাইসেন্স নেই।

মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাসের নেতৃত্বে দেওয়ানগঞ্জ মৌজায় তদন্ত শুরু হয়। টুলুর আত্মীয় আপেল মোর্তাজার পাথর খাদান আছে সেখানে। সেখানে বন্ধের নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেখ করিবুল, মনোজ টুডু, সারতাজ মোল্লা, শুভধন টুডু, সুনীল সোরেন জেলার ব্যবসায়ীদের খাদানগুলিও বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জুলাই মাসে মহম্মদবাজার এলাকায় ৯টি খাদানে এমনই নোটিস জারি করা হয়েছিল। এবার অবৈধ খাদান বন্ধের জন্য অভিযানও চালানো হবে।

টুলু মণ্ডলের অবৈধ সম্পত্তির হদিশে নানা জায়গায় এখনও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশ। এবার টুলুর আরও সম্পত্তির হদিশ পেতে পুলিশ পৌঁছল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। মঙ্গলকোটের আইমা পাড়া গ্রামে তল্লাশি চালাল টুলু মণ্ডলের ডানহাত এবং আত্মীয় ইফাজুল হকের বাড়িতে। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে একাধিক ট্রাঙ্ক উদ্ধার করেছে পুলিশ। যদিও তা নিয়ে পুলিশ মুখ খুলতে চায়নি। তবে তার আগে মিনার মণ্ডলকে নিয়ে টুলুর মূল অফিসে হানা দেয় পুলিশ। মহম্মদবাজার থানা এলাকার সোঁতশালে টুলু মণ্ডলের মূল অফিসে যান তদন্তকারীরা। সেখানে তল্লাশি করে বেশ কিছু ফাইল নিয়ে সিল করে দেওয়া হয় অফিস।