• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 21 July, 2026

‘ক্ষমতায় এলে পুলিশ এনকাউন্টার করবে’, দিলীপ ঘোষের নিদান নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

ভোটের আগে এই ধরনের কড়া ভাষার ব্যবহার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তবে এর প্রভাব সাধারণ ভোটারদের উপর কতটা পড়বে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।

‘ক্ষমতায় এলে পুলিশ এনকাউন্টার করবে’, দিলীপ ঘোষের নিদান নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

Dilip Ghosh Photo-SNS

বিধানসভা ভোটের মুখে ফের বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরে প্রচারে গিয়ে প্রকাশ্যে এনকাউন্টারের হুমকি দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার খড়গপুরে জনসভা থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যে ভয় পাবে, তাকে তো আমি ভয় দেখাবই। দম থাকলে সামনে এসো।’ তিনি আরও দাবি করেন, ক্ষমতায় এলে ‘গুন্ডা বদমাশদের এনকাউন্টার’ করা হবে। উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘যে পুলিশ এখন মাফিয়াদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে, তারাই পরে রূপ বদলে ব্যবস্থা নেবে।’

তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানায় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েই প্রশাসনকে ব্যবহার করে। ভয় দেখিয়ে ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও খড়গপুরে থানার সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশ আধিকারিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিল। তবে এবার সরাসরি এনকাউন্টারের কথা বলায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আইনের শাসন যেখানে রয়েছে, সেখানে এভাবে প্রকাশ্যে এনকাউন্টারের হুমকি দেওয়া মানে বিচারব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করা। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয়।’ দলের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচন বিধি লঙ্ঘনের সামিল। নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠছে। এই আবহে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। শাসক-বিরোধী সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের কড়া ভাষার ব্যবহার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তবে এর প্রভাব সাধারণ ভোটারদের উপর কতটা পড়বে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।