• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 13 June, 2026

আয়ূষের মৃত্যুর তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ সন্তানহারা মা, জনতার দরবারে ব্যবস্থার আর্জি

স্কুল থেকে বেরনোর সময় ব্যাগ বইতে পারছে না বললেও ছাত্র আয়ূষকে বলা হয়েছিল কিছু হবে না, ঠিক পারবে

স্কুলের গাফিলতিতে মা সন্তান হারিয়েছেন। সেই শোকে তাঁর চোখে দিন-রাত জল নেমে আসছে। এই অন্যায়ের কি শাস্তি মিলবে না? সন্তান হারিয়েও মা কি দেখতে পাবেন না অপরাধীর শাস্তি? এই প্রশ্ন বারবার মনে আসছে। হারানো সন্তানের জন্য বুকে শোক চেপে রেখে এখন মা চান দোষীকে সাজা দিতে। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে সন্তানহারা মা আর্জি জানালেন, দোষীর শাস্তির জন্য। সল্টলেকে বিজেপির দপ্তরের সামনে সকাল থেকে সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চোখের জল ফেলে একটাই আর্জি, ব্যবস্থা নিন।

এদিকে গত ১৩ মে বাঁশদ্রোণী মহাঋষি বিদ্যামন্দিরে শ্রেণিকক্ষেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আয়ূষ কুমার নাথ। কিন্তু তখন উপস্থিত শিক্ষিকা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সেখানেই বসিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ। যখন ছাত্রটি অসুস্থ বলে জানায় তখন তাকে শেষ বেঞ্চে গিয়ে চুপ করে বসে থাকতে বলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। বরং ওই ছাত্রকে ষষ্ঠ পিরিয়ড পর্যন্ত ক্লাস করানো হয় বলে অভিযোগ। তারপর অসুস্থ অবস্থায় কোনওরকমে বাড়ি ফেরে ছাত্রটি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর ১১ দিন কোমায় থাকার পর গত ২৪ মে মৃত্যু হয় তৃতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রের।

অন্যদিকে স্কুল থেকে বেরনোর সময় ব্যাগ বইতে পারছে না বললেও ছাত্র আয়ূষকে বলা হয়েছিল কিছু হবে না, ঠিক পারবে। কিন্তু ভারী ব্যাগ নিয়ে চলতে না পেরে সিঁড়িতে পড়ে মাথায় চোট পায় আয়ূষ। এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কদিন আগে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন আয়ূষের পরিবারের সদস্যরা। সেখান থেকে আশ্বাসও মেলে। এবার শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে এসে দেখা করেন আয়ূষের মা। গোটা ঘটনা শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাছাড়া হাওড়া মন্দিরতলার বাসিন্দা দেবনারায়ণ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল তৃণমূল সরকারের আমলে। তার অভিযোগ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছে। আবার কেউ তাঁর সন্তানের চিকিৎসার জন্য এসেছেন জনতার দরবারে। মুখ্যমন্ত্রী সকলকেই আশ্বস্ত করেন। আবার চিকিৎসক ছেলের রহস্যমৃত্যুতে তদন্তের দাবিতে জনতার দরবারে হাজির হন তাঁর বাবা-মা। অমর্ত্য ঘোষাল নামে যুবকের মৃত্যু হয়। ২৪ বছর বয়সের ওই যুবকের ক্যাম্পাসের বাইরে মৃত্যু হয়েছিল।