• facebook
  • twitter
Monday, 9 March, 2026

পিডিএস নেতা সমীর পুতডুণ্ডর মৃত্যুতে মমতার শোকপ্রকাশ

রবিবার রাত সওয়া ১১টা নাগাদ শেষ নিশ্বাস ফেলেন

চলে গেলেন একদা সর্বহারাদের একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা সমীর পুততুণ্ড। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত কয়েক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। রবিবার রাত সওয়া ১১টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গভীর রাতে সমীরের প্রয়াণের খবর জানিয়েছেন তাঁর ভাই সঞ্জয় পুততুণ্ড।

সিপিএমের ছাত্রসংগঠন থেকে রাজনীতিতে পথ চলা শুরু। একসময় সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক ছিলেন। দলের শীর্ষ দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক লাইন নিয়ে মতবিরোধ ঘটলে দল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে। সমীর এবং আর এক বহিষ্কৃত নেতা সইফুদ্দিন চৌধুরী মিলে গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল পিডিএস। সমীরের স্ত্রী অনুরাধা পুততুণ্ডও ছিলেন সিপিএমের সর্বক্ষণের কর্মী। তিনিও সমীরের সঙ্গে দল ছাড়েন এবং পিডিএসে যোগ দেন।

Advertisement

২০০৬-০৭ সালে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের বিরোধিতা করে পিডিএস। কৃষি আন্দোলনে জমির সম বিলিবণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বামপন্থীরা। সেই রাজনৈতিক লাইন থেকে সরে এসেছিল সিপিএম।  টাটাদের মতো শিল্পপতিদের পক্ষ নিয়ে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির জন্য কৃষকের জমির জবরদখল সমর্থনযোগ্য নয় বলেই মনে করছিলেন সমীর পুততুণ্ড এবং তাঁর দল পিডিএস। আর তাই নিজেরা শামিল হয়েছিলেন জমি রক্ষা আন্দোলনে। এখানেই তাঁদের পথ মিলে গিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আর তাই বোধহয় নীতিগত ফারাক থাকলেও তৈরি হয়েছিল সুসম্পর্কও। পরবর্তী কালে অবশ্য মমতার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

Advertisement

সমীরের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘একদা বাম আন্দোলনের শক্তিশালী নেতা সমীর পুততুণ্ডকে হারিয়ে আমি খুবই মর্মাহত। মনে হচ্ছে, আমি নিজের কাউকে হারালাম। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। অনুরাধাদিকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই, তবুও সর্বদা পাশে আছি।‘

১৯৫২ সালে জন্ম সমীরের। তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন তিনি। মার্ক্সবাদী আন্দোলনের বিষয়ে নিবিড় পড়াশোনা এবং পাণ্ডিত্য ছিল তাঁর। তবে তাঁর গঠিত দল পিডিএস নির্বাচনে সেভাবে সাফল্য পায়নি। রাজ্যের রাজনীতিতেও খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন সমীর-অনুরাধা। তবে অন্য কোনও দলের সঙ্গে তাঁরা কখনওই মিশে যাননি। পিডিএস বরাবর তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রেখেছে।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিপিএমের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক ছিল তাঁর। তবে দলের প্রথম সারির কিছু নেতার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। সুভাষ-সমীর-স‌ইফুদ্দিন সিপিএমের ভিতরে একদা বিদ্রোহ করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। সুভাষ এবং সইফুদ্দিন আগেই প্রয়াত। এ বার চলে গেলেন সমীরও।

Advertisement