• facebook
  • twitter
Thursday, 28 May, 2026

ডিএইচআরের উদ্যোগে পাহাড়ে পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ট্রেন

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ঘুম ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

পর্যটন মরসুমে দার্জিলিং পাহাড়ে তীব্র যানজট ও গাড়ির সংকটের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই চরম সমস্যায় পড়ছিল স্কুলপড়ুয়া ও অভিভাবকেরা। সেই পরিস্থিতিতে বড় উদ্যোগ নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ঘুম ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ঘুম। শিলিগুড়ি, কার্শিয়াং, মিরিক ও কালিম্পং থেকে আসা রাস্তা এখানে মিলিত হওয়ায় পর্যটনের মরসুমে এই এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘুম থেকে দার্জিলিংয়ের মাত্র আট কিলোমিটার রাস্তা পার হতে অনেক সময় দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। ফলে বহু পড়ুয়া সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারছে না। স্কুল ছুটির পরেও ট্যাক্সির অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

Advertisement

এই সমস্যার সমাধানেই জেলা প্রশাসন ও জিটিএ-র অনুরোধে উদ্যোগী হয়েছে ডিএইচআর। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ঘুম থেকে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে ট্রেন ছাড়বে এবং বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দার্জিলিং থেকে ফের ঘুমে ফিরবে। মূলত স্কুলপড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। ভাড়াও সুলভ রাখার চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটাই স্বস্তি আনবে। কারণ বর্তমানে পর্যটকদের চাপে অধিকাংশ গাড়িই আগেভাগে বুকড থাকে। ফলে অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি ছিল, পর্যটকদের জন্য চালু থাকা ‘জয় রাইড’ পরিষেবা সাময়িকভাবে কমিয়ে স্কুল ট্রেন চালানো হোক।

যদিও ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জয় রাইড পরিষেবা ডিএইচআরের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করাও জরুরি। ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই সঙ্গে আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ঐতিহ্য বজায় রেখেই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নতুন এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।

Advertisement