• facebook
  • twitter
Thursday, 21 May, 2026

প্রোমোটারকে হুমকি এবং মারধরের অভিযোগে পুলিশের জালে দেবরাজ চক্রবর্তীর ছায়াসঙ্গী

এক প্রোমোটারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং মারধরের অভিযোগে এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। সেই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল রাজনীতির এক প্রভাবশালী মুখ দেবরাজ চক্রবর্তীকে মঙ্গলবার গভীর রাতে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর আটক হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমিত চক্রবর্তীকে। এক প্রোমোটারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং মারধরের অভিযোগে এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাগুইআটির রঘুনাথপুর এলাকার প্রোমোটার কিশোর হালদারের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। পরে বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই ব্যবসায়ীর উপর হামলা চালানো হয়। আগ্নেয়াস্ত্রের বাট ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এরপরই বাগুইআটি থানায় মামলা দায়ের করেন আক্রান্ত প্রোমোটার। সেই মামলার সূত্র ধরেই অমিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ।

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবরাজ চক্রবর্তী শুধু কাউন্সিলর বা মেয়র পারিষদ ছিলেন না, তিনি উত্তর ২৪ পরগনায় যুব তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে কামারহাটি, দমদম ও বিধাননগর অঞ্চলে তাঁর সংগঠনগত দাপট ছিল উল্লেখযোগ্য। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলত।

Advertisement

এদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক অনিয়মের তদন্তে আগেও কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে এসেছিলেন দেবরাজ। সাম্প্রতিক সময়ে বিধাননগর এলাকায় বেআইনি নিয়োগ ও টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়। পুলিশি তৎপরতার খবর পেয়ে কয়েক দিন আত্মগোপন করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

 

 

 

Advertisement