নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রকৃত আয় গোপন করার অভিযোগে আইনি জটিলতায় জড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে— এই আশঙ্কা থেকেই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই।
তাঁদের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। সেই প্রেক্ষিতেই অদিতি ও দেবরাজ নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। শুক্রবার এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Advertisement
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পূর্ণেন্দু বসুর পরিবর্তে অদিতি মুন্সিকে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যকে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর প্রচারের নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল অদিতির উপর আস্থা রাখলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন।
Advertisement
এদিকে, সম্প্রতি বিধাননগরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আরও এক ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার অমিত চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি বিধাননগরের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অভিযোগ, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের গণনার দিন বিজেপির বিজয় মিছিল আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই অমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ও হেমন্ত চৌধুরীকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
Advertisement



