উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগ ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার শিলিগুড়ির মৈনাক ট্যুরিস্ট লজে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি গ্রামীণ উন্নয়ন ও সরকারি পরিষেবা প্রদানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মীসংকট এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিধায়ক নোমান রাই এবং কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক সোনম লামাও।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, একদিকে যেমন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারের ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে বহু নির্বাচিত প্রতিনিধি পদত্যাগ করছেন বা দায়িত্ব পালন করছেন না। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন সমস্যার মুখে পড়ছে। তিনি জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালন করতেই হবে। কেউ কাজ না করলে সরকার বিকল্প উপায়ে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এদিনের বৈঠকে মূলত কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণ, প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং কর্মী সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া অর্থ আসা শুরু হয়েছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিলের পাশাপাশি সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে আরও ১৭০০ কোটি টাকা রাজ্যে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা গ্রামোন্নয়ন ও একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন ও গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কর্মীসংকট দূর করতে তিন স্তরে মোট ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি চা-বাগান এলাকায় আবাসন সমস্যা, পাহাড়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জিটিএ-র কাজের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাট্টা না থাকার কারণে যারা এতদিন ঘরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন তাঁদের সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
একশো দিনের কাজের প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে জবকার্ড যাচাইয়ের কাজ চলছে বলেও জানান দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, এক্ষেত্রে ২৫-৩০ লক্ষ এমন মানুষ রয়েছেন যারা এখানকার প্রকৃত নাগরিক নন। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে আধার যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে প্রকল্পের সুবিধা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছয়।




