শরৎ এল রে: কথিত রয়েছে এই আশ্রমে প্রথম দুর্গাপুজো হয়েছিল, গড়জঙ্গলের আশ্রম সংরক্ষণের দাবি

Image: IANS

বাঘ-ভালুকের বিচরণ আর ধ্যানমগ্ন ঋষিদের নানা লোককথায় ঘেরা গভীর অরণ্যের মধঅযে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে ঋষি মেধার সেই প্রাচীন, জীর্ণ আশ্রম। ভক্তদের বিশ্বাস এই আশ্রমেই সূচনা হয়েছিল বিশ্বের প্রথম দুর্গাপুজো। হিন্দু পুরাণ, বিশেষ করে শাক্ত ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এই প্রাচীন আশ্রমটি রাজা সুরথের স্মৃতিবিজড়িত।মার্কণ্ডেয় পুরাণ ও চণ্ডী অনুসারে, রাজ্য হারানোর পর রাজা সুরথ বসন্তকালে এখানেই দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন।

পশ্চিম বর্ধমান জেলার সরকারি ওয়েবসাইটে স্থানীয় এই বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘হিন্দু পুরাণ, বিশেষত শাক্ত দর্শনের ক্ষেত্রে গড়জঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি এই স্থানেই ঋষি মেধার কাছে দেবী মহামায়ার বিষয়ে জ্ঞানলাভ করেছিলেন। সুরথ এখানে বসন্তকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুযায়ী, এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম দুর্গাপূজা।‘

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: মহালয়ার দিনেই হয় দুর্গাপুজো ও বিসর্জন, বার্নপুরের কালীকৃষ্ণ আশ্রমে ৮৭ বছরের ঐতিহ্য দেখতে ভক্তদের ভিড়


ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, চন্দ্রবংশীয় ন্যায়পরায়ণ শাসক সুরথ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তাঁর রাজ্য হারান। মন্ত্রীরা তাঁর সম্পদ ও শাসনক্ষমতা দখল করে নিলে তিনি বাধ্য হয়ে বনবাসে চলে যান। সেখানে ঋষি মেধার আশ্রমে পৌঁছে তাঁর সাক্ষাৎ হয় সমাধি বৈশ্যের সঙ্গে—এমন এক বণিক, যাঁর স্ত্রী ও পুত্ররা তাঁকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে পরিত্যাগ করেছিল।

 

পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রতি অন্যায় করলেও তাঁরা পরিবারের সদস্যদের চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। এর কারণ জানতে তাঁরা ঋষির শরণাপন্ন হন। ঋষি তাঁদের মহামায়ার—সেই পরম ঐশ্বরিক শক্তি যা মানুষকে জাগতিক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ রাখে— সে সম্পর্কে শিক্ষা দেন। আশ্রমের একটি কুটিরে বর্তমানে বসবাসরত প্রধান সেবক ব্রহ্মানন্দ গিরি জানান যে, ঋষি তাঁদের দেবী মহামায়ার পূজা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: সাড়ে চারশো বছরের রীতি মেনে আজও মোষবলি হয় ইদিলপুরের ঘোষ বাড়িতে

কথিত আছে যে, তিন বছরের কঠোর তপস্যার পর দেবী দুর্গা তাঁদের সামনে আবির্ভূত হন এবং সুরথকে তাঁর রাজ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও মুক্তি প্রদান করেন। গিরি বলেন, ‘তখন রাজা সুরথ শরৎকালের পরিবর্তে বসন্তকালে প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন।‘

স্থানীয় ভক্তরা পাথর-খোদাই করা একটি বেদি বা পূজার মঞ্চের ধ্বংসাবশেষকে সেই স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন, যেখানে দেবীর পূজা করা হয়েছিল।প্রায় দুই দশক আগে স্থাপিত একটি সাদা পাথরের ফলকেও প্রাচীন এই পূজার সঙ্গে স্থানটির সম্পর্কের কথা উল্লেখ রয়েছে।

ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে যুগ যুগ ধরে যজ্ঞের আগুন জ্বলছে এবং একটি গুহার ভিতরে দেবী চণ্ডীর প্রাচীন মূর্তি আজও বিদ্যমান। তবে স্থানটি ভক্ত ও বিশ্বাসীদের আকর্ষণ করলেও এর জরাজীর্ণ অবস্থা ধর্মীয় ও ঐতিহ্যে রক্ষা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/N6g_XzAG6tA?si=T-slDL-T2cxXeo53″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>