রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বীরভূমের জন্য বড় শিল্প উপহার ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর পেশ করা বাজেট সাঁইথিয়া ব্লকে একটি অত্যাধুনিক ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব রেখেছেন। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাঞ্চলে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।
যদিও সরকারিভাবে এখনও ওই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট জমির কথা ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা আমোদপুর চিনি কলের বিশাল জমিতেই এই প্রকল্পের গড়ে উঠতে পারে। একসময় রমরমিয়ে চলত আমোদপুর সুগার মিল। বহু মানুষ সেখানে কাজ করতেন। কিন্তু পরে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে গোটা এলাকা। পরে সেখানে শিল্প পার্ক তৈরি হলেও প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি।
এবার আমোদপুর সুগার মিলের পড়ে থাকা জমি ও পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়েই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের একটি আধুনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হল এর কৌশলগত অবস্থান। আহমেদপুর ও সাঁইথিয়া রেলপথের কাছাকাছি হওয়ায় কাঁচামাল এবং তৈরি হওয়া পণ্য পরিবহণ খুবই সহজ হবে। পাশাপাশি পানাগড় ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগ থাকায় শিল্প পরিচালনায়ও বিশেষ সুবিধা মিলবে। এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, জমিটি সরকারি হওয়ায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়তো হবে না। ফলে প্রকল্পটি অতিদ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ডিফেন্স হাবকে কেন্দ্র করে বড় কারখানার পাশাপাশি একাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ব্যবসা, পরিবহণ ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।
তবে এই প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং কাজ শুরুর সময়সূচি নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। এই হাব যদি প্রকৃত ভাবে গড়ে ওঠে তাহলে তা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার কবে এটি বাস্তবায়িত হয়। ইতিমধ্যেই আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে বীরভূমবাসী। কারণ সেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষজন পড়াশোনার পরে চাকরি করতে যান বাইরে। সেটা অনেকেই চান না।




