• facebook
  • twitter
Saturday, 21 March, 2026

চব্বিশ ঘণ্টা মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে ভোট ময়দানে দেবাশিস কুমার

আমি বিগত পাঁচ বছর ধরে প্রত্যেক দিন জনসংযোগ চালিয়েছি। প্রত্যেক দিন মানুষের পাশে থেকেছি। প্রতিটি দিনই আমার কাছে ছিল নির্বাচনের আগের মুহূর্ত। তাই এবারের প্রচারের জন্য আমাকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে না

একসময় শহর বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেলেও এখন তিলোত্তমা অনেক বেশি ঝাঁচকচকে, আধুনিক। অনেক বেশি গতিশীল। নতুন করে হকার বসানো বন্ধ করার পাশাপাশি গড়িয়াহাট প্লাস্টিক মুক্ত করতেও সক্ষম হয়েছেন এই বিদায়ী বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর তিলোত্তমাকে সাজানোর স্বপ্ন সাকারের অন্যতম সৈনিক কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের মেয়র পরিষদ তথা রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমার।

রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি মানুষ তাঁদের বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে সব সময় তাঁকে পেয়েছেন বলে জানান বিদায়ী বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের সুখেও তাঁদের পাশে থেকেছি, দুঃখেও তাঁদের পাশে থেকেছি। যখনই কোনও মানুষ  কোনও সহযোগিতা চেয়ে আমার কাছে এসেছেন, আমি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।‘

Advertisement

এবার বাংলায় দু’দফায় ভোট হচ্ছে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। কালীঘাট থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন। রাসবিহারী থেকে এবারও দাঁড়াচ্ছেন বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিষ কুমার। হাতে মাত্র আর এক মাস বাকি। তার আগেই জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন তিনি।

Advertisement

রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের অলিতে গলিতে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা। জোরকদমে চলছে দেওয়াল লিখন। বিদায়ী বিধায়ক নিজের হাতে দেওয়াল লিখছেন। বড় রাস্তায় পড়েছে ব্যানার। সেখানে লেখা রয়েছে ৩৬৫দিন, ২৪ ঘণ্টা রাসবিহারীর মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার।

বিদায়ী বিধায়ক জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় এসআইআরের ফলে বাংলার ভোটারদের অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাই ছাব্বিশের নীলবাড়ির লড়াই  ‘বাংলা বাঁচাও লড়াই’ বলে দাবি করেন দেবাশিস কুমারের। যে সমস্ত মানুষ বাংলার অস্তিত্বকে রক্ষা করতে চান, বাংলার অস্মিতাকে রক্ষা করতে চান, এক কথায় বলতে গেলে বাংলাকে রক্ষা করতে চান, তারাই তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ভোটের প্রচারে কাজের তালিকা তো থাকছেই। লাইট লাগানো, রাস্তাঘাট মেরামতি, কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলার পাশাপাশি কিছু ‘সিগনেচার ওয়ার্ক’ রয়েছে তাঁর।

একাকী প্রবীণদের কথা মাথায় রেখে তিনিই প্রথম তাঁর ওয়ার্ডে চালু করেছিলেন, ‘মোবাইল মরচারি এট ইয়োর ডোর স্টেপ’। যে সব বয়স্কদের পরিজন বিদেশে থাকেন বা দূরে থাকেন, তাঁরা অনেক সময় বাড়ির সদস্যদের মৃত্যুর সংবাদে পেয়ে ঠিক সময় এসে পৌঁছতে পারেন না। ফলে অনেক সময় সেই সব পরিবার অসুবিধার মধ্যে পড়ে। আগে পিস হেভেনে দেহ রাখা হত। এই সমস্যার কথা উপলব্ধি করে তিনিই প্রথম এই ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। অর্থাৎ মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ বৈদ্যুতিন যন্ত্র, যা যে কোনও বাড়ি বা  ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

গাছেদের জন্য অ্যাম্বুল্যান্সও তৈরি করেন তিনি। কোনও গাছের রোগ দেখা দিলে ওই অ্যাম্বুল্যান্স গিয়ে সেই গাছের চিকিৎসা করবে। দরকার পড়লে, ওই গাছটিকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করে ফের সেই জায়গাতেই লাগানো হবে। বিজেপির ভোটের প্রচারের একটি বড় অংশই ধর্মকে কেন্দ্র করে, সেখানে হিন্দু ভোটারদের জন্য ইতিমধ্যেই বিবেকানন্দ পার্কে জগন্নাথ দেবের মূর্তি স্থাপন করে তার সামনে ‘মেডিটেশন’ করার জন্য একটি অভিনব ‘মেডিটেশন সেন্টার’ তৈরি করিয়েছেন দেবাশিস কুমার।

জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, ‘একটি বেসরকারি সংস্থা একটি সমীক্ষা করেছে আমার বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের নিয়ে। সেই সমীক্ষায় উঠে এসেছে আমার বিপরীতে যে সিপিএম প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন তাঁকে এক শতাংশ মানুষও চেনেন না। আমি বিগত পাঁচ বছর ধরে প্রত্যেক দিন জনসংযোগ চালিয়েছি। প্রত্যেক দিন মানুষের পাশে থেকেছি। প্রতিটি দিনই আমার কাছে ছিল নির্বাচনের আগের মুহূর্ত। তাই এবারের প্রচারের জন্য আমাকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে না।‘

Advertisement