এসআইআর নোটিস হাতে পেয়েই ফের মৃত্যু। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে। মৃত মহিলার নাম খালেদা বিবি। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তাঁর চার পুত্রের নামে শুনানির জন্য নোটিস আসে। এসআইআর-এর নোটিস নিয়ে মানসিক চাপ থেকেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বলে দাবি পরিবারের।
কুলপির করঞ্জলী এলাকায় থাকতেন খালেদা বিবি। তাঁর চার সন্তান রয়েছে। কিছু দিন আগেই তাঁর সন্তানদের নামে এসআইআর-এর শুনানির নোটিস আসে। নির্দিষ্ট দিনে কাগজপত্র, নথি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল নোটিসে। সেই নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই পুত্রদের নিয়ে বৃদ্ধা চিন্তায় ভুগছিলেন বলে দাবি পরিবারের। মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পরিবারের। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যেরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
খালেদার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাড়ি যান কুলপি ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুপ্রিয় হালদার। এই মৃত্যুর জন্য তিনি একযোগ নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে দায়ী করেছেন। কুলপির ব্লক তৃণমূল সভাপতির কথায়, ‘দুঃখজনক ঘটনা। একাধিক বার শুনানিতে ডাকলে আতঙ্ক তো ছড়াবেই। স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, কেন আমাকে বার বার ডাকা হচ্ছে? সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট ধারণা নেই। নির্বাচন কমিশনার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। আমরা চেষ্টা করছি যথাসাধ্য বোঝানোর। বিজেপির দালালি করছে কমিশনার।’
Advertisement
অন্য দিকে, এসআইআর শুনানির দায়িত্বে থাকা এক এইআরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের দায়িত্বে ছিলেন। ওই এইআরও-র নাম জিন্নাত আমান খাতুন। শুনানি কেন্দ্রেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। টানা কাজ ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি ওই এইআরও-র সহকর্মীদের। অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে বানেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এইআরও জিন্নাত।
Advertisement



