• facebook
  • twitter
Saturday, 21 March, 2026

মার্চেই দেওয়া হবে মহার্ঘ ভাতা

অর্থ দপ্তরের সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মেটানো হবে

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর থেকেই কর্মীদের মধ্যে ডিএ পাওয়ার অপেক্ষা আরও তীব্র হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। চলতি মার্চ মাসেই প্রথম কিস্তির অর্থ প্রদান শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মেটানো হবে। এই চার বছরের বকেয়ার অর্ধেক মার্চ মাসেই প্রদান করা হবে এবং বাকি অংশ আগামী সেপ্টেম্বর অর্থাৎ দুর্গাপুজোর আগেই মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে বহু কর্মী মার্চেই একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্ক হাতে পেতে চলেছেন।

Advertisement

অর্থ দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, পঞ্চম বেতন কমিশনের ‘স্কেল ১’-এ থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। যাঁদের বেসিক বেতন ৬,৬০০ টাকা, তাঁদের ক্ষেত্রে দু’টি ইনক্রিমেন্ট যোগ করে বেসিক ধরা হয়েছে ৭,০০০ টাকা। এই হিসেবে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মোট বকেয়া ডিএ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা। এর অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা মার্চ মাসেই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

ডিএ-র পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মীর বেসিক বেতনের উপরই মূলত হিসাব করা হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ডিএ-র পার্থক্য ধরে দীর্ঘ সময়ের ভিত্তিতে এই হিসেব কষা হয়েছে। সূত্রের খবর, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের ব্যবধানকে ভিত্তি করে মোট বকেয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেই অনুযায়ী, যদি কোনও কর্মীর বেসিক বেতন ৭ হাজার টাকা হয়, তবে তাঁর মোট বকেয়া প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৮৯০ টাকা হতে পারে। বেসিক ১০ হাজার টাকা হলে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৪০ টাকা আর ১৫ হাজার টাকা বেসিকের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক প্রায় ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (আইএফএমএস)-এর উপর নির্ভর করছে রাজ্য সরকার। এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মীর বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ২০১৬ সাল থেকে এই ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ শুরু হওয়ায় ওই সময়ের তথ্য সহজেই যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। তাই প্রথম পর্যায়ে ২০১৬-২০১৯ সময়কালের বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও পেনশনভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই অর্থ জমা করা হবে। ট্রেজারি ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে অর্থ প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বাকি বকেয়া পরবর্তী ধাপে ধাপে মেটানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বকেয়া ডিএ পাওয়ার পথে এগোচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা, এখন সবার নজর মার্চের প্রথম কিস্তির দিকে।

Advertisement