• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 28 June, 2026

অর্থলগ্নি সংস্থার নামে ৪০ লাখের প্রতারণা, সর্বস্ব খুইয়ে পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার

ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তও চলছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

অর্থলগ্নি সংস্থার নামে ৪০ লাখের প্রতারণা, সর্বস্ব খুইয়ে পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার

ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থার ফাঁদে পড়ে আগেই বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। কোটি কোটি টাকা সাফ হয়ে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের। তারপরেও অর্থলগ্নি সংস্থার দাপট এই রাজ্যে কমেনি। নৈহাটিতে আবারও একটি বড় প্রতারণার ঘটনা সামনে এল। যারা লোক ঠকিয়ে টাকা তোলার কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ। সেই ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন নৈহাটির বাসিন্দা শুভদীপ বসু।

প্রথমে বিষযটি বুঝতে পারেননি শুভদীপবাবু। পরে যখন বুঝতে পারলেন তখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রায় সাফ। আর এভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে এখন পুলিশের দুয়ারে কড়া নাড়ছেন তিনি। ২০ লক্ষেরও বেশি টাকা আত্মস্যাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত সুমন দে সরকার। এই সুমন দে সরকার নানা ভাল কথা বলে মন জিতে নিয়েছিলেন শুভদীপবাবুর। কিন্তু সেই ভাল কথার আড়ালে যে সর্বস্বান্ত হওয়ার ছক কষা হয়েছিল তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি শুভদীপবাবু। এবার প্রতারণার শিকার হয়ে নৈহাটি থানায় অভিযোগ জমা দিলে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।

অভিযোগকারী শুভদীপ বসু বয়ান অনুযায়ী প্রতারণা করা সংস্থার নাম ‘লোকাউন এলএলপি’। এটি একটি অর্থলগ্নি সংস্থা বলে শুভদীপবাবুকে বলা হয়েছিল। এমনকী নানা লোভনীয় কথা সামনে নিয়ে এসে অর্থ বিনিয়োগ করতে রাজি করানো হয়েছিল তাঁকে। একটি নামী নির্মাণকারী সংস্থার নাম ব্যবহার করে তারা বাজার থেকে বেআইনিভাবে টাকা তুলছে বলে অভিযোগ। শুভদীপবাবুকে বলা হয়েছিল, সংস্থাটি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, ভালো টাকা মুনাফার টোপ দেওয়া হয়েছিল। আর তাঁর লক্ষাধিক টাকা প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

শুভদীপবাবুর অভিযোগ, অভিযুক্ত সুমন দে সরকার ‘লোকাউন এলএলপি’-র সদস্য এবং মাস্টার মেম্বার। ‘তিনি আমাকে ও আমার পরিবারকে তাঁর অধীনে ‘সাব-মেম্বার’ হিসেবে যুক্ত করেন। সব বিনিয়োগ তাঁর মাধ্যমেই হতো। চোখে ধুলো দিতেই প্রথম তিন মাস জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বিনিয়োগের প্রাপ্য সুদ পেতে অসুবিধা হয়নি। পরে ‘হাই-প্রোফাইল সদস্য’ হওয়ার জন্য আমাকে উৎসাহিত করা হয়। এখানে ছিল বিদেশ ভ্রমণের টোপ।’ এখানেই শেষ নয়, ক্যামেরা কেনা থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট এবং আইনি সহায়তার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন শুভদীপবাবু। কিন্তু প্রতারণা প্রমাণিত হতেই টাকা ফেরত দিতে নারাজ হয় অভিযুক্ত।

এফআইআর-এ বলা হয়েছে, অভিযুক্ত টোপ দিয়েছিল, টাকা নিরাপদে থাকবে এবং ৬ মাস পর যে কোনও সময় বিনিয়োগের অর্থ ফেরত নিতে পারবে বিনিয়োগকারী। তিন মাস পর থেকেই সুদ দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং পরবর্তী তিন মাস ধরে টাকা নিজের কাছে আটকে রাখে সুমন দে সরকার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিনিয়োগ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীরা এমন সিদ্ধান্ত নিতেই অভিযুক্ত সুমন দে সরকার অর্থ পরিশোধ না করে নানা অজুহাত খাড়া করতে থাকে। এছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত  ক্রেডিট কার্ডের ইএমআই দেওয়াও বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ। ফলে আর্থিক বোঝা ও সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তও চলছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এর পিছনে কাদের হাত রয়েছে এবং কারা জড়িত তা নিয়েও শুরু হয়েছে তদন্ত।

এর আগেও প্রতারণার অভিযোগে ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিল এই অভিযুক্ত খড়দহ থানার হাতে। মঞ্জুনাথ রাও নামে এক ব্যক্তি সুমন দে সরকারের বিরুদ্ধে ভ্রমণ সংস্থার আড়ালে প্রতারণা চক্র চালানোর অভিযোগ নিয়ে আসে। তাছাড়াও ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি এবং জঙ্গলে ভ্রমণ নিয়ে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত অধরা।