অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ইউসিসি নিয়ে বিরোধীরাও সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, ইউসিসি চালু করে বিজেপি সরকার আদিবাসী বা জনজাতিদের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। বিরোধীদের সেই অভিযোগ এবং ইউসিসি নিয়ে যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করতে মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি সাফ জানিয়েছেন, সংবিধানের ৩৬৬ (২৫) এবং ৩৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বীকৃত তফসিলি জনজাতির সদস্যদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে। ফলে তাঁদের ঐতিহ্য, সামাজিক প্রথা এবং সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। তাঁদের রীতিনীতি সব আগের মতোই বজায় থাকবে। কিন্তু কিছু মানুষ ইউসিসি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
একই সঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি ইউসিসি সম্পর্কে বলেছেন, ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিজেপির অবস্থান নতুন নয়। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই দলের নির্বাচনী ইস্তেহার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ। এর পিছনে কোনও গোপন উদ্দেশ্য নেই। আইনের দৃষ্টিতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান অধিকার এবং সমান দায়িত্ব নিশ্চিত করাই ইউসিসির মূল লক্ষ্য।’
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সম্পর্কে শমীক আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ-সহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে ধর্মভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইন চালু রয়েছে। এর ফলে আইনি বৈষম্য তৈরি হয়। কিন্তু বিজেপি চায়, দেশজুড়ে একটি অভিন্ন নাগরিক আইন চালু হোক। তাতে দেশের সাংবিধানিক সমতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।’
বিরোধীদের একাংশের দাবি, ইউসিসির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা সন্তানসংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। বিরোধীদের সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছেন শমীক। তাঁর কথায়, ‘ইউসিসি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও জায়গা নেই। ইউসিসি চালু হলে একদিকে যেমন সকল নাগরিকের জন্য সমান আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ হবে, ঠিক তেমনই সংবিধান-প্রদত্ত তফসিলি জনজাতির বিশেষ রক্ষাকবচও অক্ষুণ্ণ থাকবে।’




