আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। কিন্তু এই উপনির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। সোমবার কংগ্রেসের প্রচারের সময় গাড়িতে ব্যাপক হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এই হামলার ঘটনাস্থল তেরপেখ্যা ট্রেকার স্ট্যান্ড এলাকা। এই ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান জেলবন্দি। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর মামলার রায় স্থগিত রেখেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের মাটিতে লড়াই করতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের প্রচার গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। গাড়ির চালক ও গাড়িতে থাকা কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। যদি বিজেপির দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। কংগ্রেসের প্রচার করার সময় হঠাৎই কিছু দুষ্কৃতী তাদের গাড়িতে ইট, লাঠি দিয়ে ভাঙচুর করে। আর ওই গাড়িতে থাকা কংগ্রেস নেতা পিনাকী বেরা এবং গাড়ির চালক এই হামলার শিকার হন। এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের নির্বাচনী এজেন্ট সুব্রত মহাপাত্র পুলিশ পর্যবেক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, সোমবার কলকাতা থেকে প্রচারের জন্য আসা গাড়িতে তেল ভরানোর উদ্দেশে তেরাপেখ্যা ট্রেকার স্ট্যান্ডে পৌঁছয়। সেখানেই ২০-২৫ জন বিজেপি কর্মী গাড়িকে ঘিরে ধরে ইট এবং লাঠি দিয়ে ব্যাপক হামলা চালায়। গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। গাড়ির চালক এবং গাড়িতে থাকা এক কংগ্রেস কর্মীকেও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। শাসকদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই অভিযোগ কারা করেছে এবং কেন করেছে সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।
তাছাড়া যেদিন সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেসকে সমর্থন করবে। তারপরেই ১৯ বছর পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। উফনির্বাচনের আগে তাঁর জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে স্বামীর হয়ে প্রচার শুরু করেছেন স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। যে গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সেটিতেই অর্পিতার প্রচার করার কথা ছিল। আর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের নির্বাচনী এজেন্ট সুব্রত মহাপাত্র পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কাছে অভিযোগ করে সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি ভয় পাচ্ছে। তাই আমাদের প্রার্থীকে জেলে আটকে রেখেছে। প্রচার গাড়িতেও হামলা চালাচ্ছে। আমরা অভিযোগ করেছি। নন্দীগ্রামজুড়ে প্রতিবাদ সভা ও মিছিলও হবে।’




