রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পর্যবেক্ষক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আইনশৃঙ্খলা ও ভোট পরিচালনা নিয়ে বেশ কিছু কড়া নির্দেশ দেন বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে ভোটগ্রহণের আগের পাঁচ দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রথম দফায় রাজ্যে প্রায় ১৯২০ সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সদ্য বদলি হওয়া জেলাশাসকদের বাংলো ছাড়তে হবে আগামী ২২ মার্চের মধ্যে।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোটের পাঁচ দিন আগে থেকেই এলাকায় আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা বাড়ানো এবং রাজ্য পুলিশের দায়িত্ব সীমিত রাখার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে পুলিশ মূলত আইনি প্রক্রিয়া ও নথিভুক্তির কাজেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও প্রশাসনিক মহলে এই সম্ভাবনা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Advertisement
এদিকে, ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে বুথস্তরেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আগে যেখানে ভোটারদের লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বে পুলিশ থাকত, সেখানে এবার বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বেশি দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
Advertisement
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে প্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে তাঁদের সমস্ত সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে। কোন প্ল্যাটফর্মে কতগুলি অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং সেগুলি স্বীকৃত কিনা— এই সমস্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নির্বাচনের সময় ভুয়ো প্রচার ও গোপন প্রচার কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সংগঠনকে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগে মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির (এমসিএমসি) অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন দিলে তা নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নিয়ম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি সব ধরনের ইন্টারনেট মাধ্যমেই প্রযোজ্য।
জেলার স্তরে এমসিএমসি-র কাছে বিজ্ঞাপন অনুমোদনের জন্য আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি, কমিশন একটি আপিল কমিটিও গঠন করেছে, যেখানে এমসিএমসির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানানো যাবে। ভোটের আগে ‘পেইড নিউজ’ বা টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশের উপরও কড়া নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এছাড়া, সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো রুখতেও সক্রিয় হচ্ছে কমিশন। এই বিষয়ে পুলিশ, নোডাল অফিসার এবং বিভিন্ন সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উদ্দেশ্য, ভোটের আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো আটকানো এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া।
উল্লেখ্য, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ শুক্রবার হওয়ার কথা থাকলেও ইদের কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার প্রথম দফার তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং একই সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার তালিকাও প্রকাশিত হতে পারে। এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, এই মাসের মধ্যেই আরও দুই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পৌঁছতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সব মিলিয়ে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে কমিশনের একাধিক পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
Advertisement



