বালুরঘাটে কর্মসূচি রয়েছে। তাই সেখানে এসে প্রশাসনিক কাজকর্ম করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এটা আগে থেকেই ঘোষিত কর্মসূচি। কিন্তু সকাল থেকে কাজ করে মুখ্যমন্ত্রী দুপুরে খাবেন কোথায়? আর কী খাবেন? এমন সব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান অনেকেই। এবার সেটাই প্রকাশ্য চলে এল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে আসছেন তিনি। বুধবার বালুরঘাটে এসে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈঠক করার পর মধ্যাহ্নভোজ সারার বিষয়টি ঠিক হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে।
যাঁরা এতদিন বলতেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ঠাণ্ডা লড়াই আছে দলের মধ্যে তাঁরা এই ঘটনায় বার্তা পেয়ে যাবেন। আসলে কোনও ঠাণ্ডা লড়াই নেই। সবই গুজব এবং সাজানো। নয়াদিল্লিতে গেলেও সুকান্তবাবুর সঙ্গে কথা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর। এমনকী অবসর মিললে আড্ডাও হয়। সুতরাং এই ঠাণ্ডা লড়াই যে সাজানো সেটা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। তাই তো মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন সুকান্ত মজুমদারের স্ত্রী কোয়েল মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ এবং স্বাদের কথা মাথায় রেখে একাধিক পদ রান্না করা হয়েছে। সকাল থেকেই শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি। কোয়েল দেবী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ অনুযায়ী দেশীয় ও স্থানীয় নানা পদ রান্না করে তাঁকে খাওয়াবেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে উঠেছে। সকলেরই প্রশ্ন মধ্যাহ্নভোজের মেনু কী থাকছে? মুখ্যমন্ত্রীর খাবার তালিকায় থাকছে কী? জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজের তালিকায় রয়েছে-ভাত, পাট ভাজা, শুক্তো, পোস্ত, বালুরঘাটের বিখ্যাত রাইখর মাছ ভাজা, ময়া মাছের চড়চড়ি। তার সঙ্গে থাকছে কাতলা মাছ, ইলিশ মাছ, দেশি মুরগির মাংস, চাটনি, রসগোল্লা, নয়াবাজারের দই-সহ আরও কয়েকটি সুস্বাদু পদ। মুখ্যমন্ত্রী পোস্ত এবং ইলিশ মাছ খেতে ভালবাসেন। তাই সেসব রাখা হয়েছে মেনুতে।
তাছাড়া সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে এই মধ্যাহ্নভোজে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সুকান্ত মজুমদার নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে আপ্যায়ন করবেন। এমনকী উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকেরও আসার কথা আছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা তঙ্গে উঠেছে। সুকান্ত মজুমদারের বাসভবন এবং আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, বালুরঘাটের সাংসদের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সুকান্ত মজুমদারের বাড়িতে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন নিয়েও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।




