• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 10 July, 2026

গঙ্গা ভাঙন ঠেকাতে কেন্দ্রের কাছে ৩৬০০ কোটির প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর, লক্ষ্য স্থায়ী সমাধান

সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও কড়া ব্যবস্থা, নজরদারির নির্দেশ পুলিশ-প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে

গঙ্গা ভাঙন ঠেকাতে কেন্দ্রের কাছে ৩৬০০ কোটির প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর, লক্ষ্য স্থায়ী সমাধান

Suvendu Adhikari Photo-IANS

মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের মানুষের বড় সমস্যা গঙ্গা ভাঙন। এবার তা রোধে এক মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে মাঠে নামল রাজ্য সরকার। গঙ্গা ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একধাক্কায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রস্তাব তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকাই খরচ করা হবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রত্যেক বছর গঙ্গা, ভাগীরথীর ভাঙনে কৃষিজমি থেকে বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। কেন্দ্রের কাছে যে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে ৫০ শতাংশ টাকা কেন্দ্র এবং বাকি ৫০ শতাংশ রাজ্য সরকার দেবে।

এদিকে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ মিটিং করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং নানা সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তারপর বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গঙ্গার ভাঙন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। ৩,৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করা হবে। মুর্শিদাবাদে ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এই জেলাতে ডেভেলপমেন্টের নানা স্কিম রিভিউ করলাম এবং বেশ কিছু জিনিস আধিকারিকদের নির্দেশ দিলাম। এই দু’মাস খুব একটা বেশি সময় নয়।’

অন্যদিকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ১৫ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ১২ লক্ষ নারী টাকা পেয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘নারীরা আমাদের সমাজের মূল স্তম্ভ। তাদের ক্ষমতায়ন ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্নপূর্ণা যোজনায় নারীদের সরাসরি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে। প্রবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি প্রবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে।’

তাছাড়া সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও কড়া ব্যবস্থা, নজরদারির নির্দেশ পুলিশ-প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদে এখনও পর্যন্ত মোট ৬৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলার থেকে এই সংখ্যা তুলনায় কম। অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে বিএসএফের সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনকে আরও নিবিড় যোগাযোগের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘সময় কম থাকলেও কাজের গতিতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। একাধিক সরকারি প্রকল্প, পিএম আন্না সুরক্ষা যোজনার রেশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা মিলিয়ে প্রান্তিক পরিবারগুলি প্রত্যেক মাসে ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা পেতে পারে। আমাদের হিসাব অনুসারে একটি প্রান্তিক পরিবার নানা প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিমাণ সাহায্য পাবে। এতে তাদের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হবে।’