• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 28 October, 2026

‘মমতাকেই দলনেত্রী মনে করে চলেছি’, ঋত শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে কালীঘাটমুখী চোপড়ার বিধায়ক

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান এই ঘোষণা করার পরই চোপড়া আইটিআই কলেজ মাঠে চুটিয়াখোর

‘মমতাকেই দলনেত্রী মনে করে চলেছি’, ঋত শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে কালীঘাটমুখী চোপড়ার বিধায়ক

MLA Hamidul Rahaman Photo-SNS

ঋত শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। আরও এক বিধায়ক ঋত শিবির ত্যাগ করে কালীঘাটমুখী হলেন। এটা বিদ্রোহী শিবিরের কাছে বড় সেটব্যাক। আগেই বেশ কয়েকজন ওই শিবির ত্যাগ করে ঘরে ফেরার বার্তা দিয়েছেন। এবার আবার একই ঘটনা ঘটল। ঋতব্রত শিবির থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক। ঋতব্রত শিবিরে আর থাকছেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছি এবং থাকব বলে ঘোষণা করলেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান। আর এই কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করার জেরে চাপে পড়ে গিয়েছেন খোদ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়করা একের পর এক ছেড়ে চলে গেলে তাঁর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়।

ইতিমধ্যেই বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে পৃথকভাবে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে। তাতে রাজ্য-রাজনীতিতে গুঞ্জন চরমে উঠেছে। আগামী ৩০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন দু’পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে নথি দেখবে এবং যুক্তি শুনবে। তারপরই তৃণমূলের নাম ও প্রতীক কোনও একপক্ষকে দেওয়ার কথা। যদিও সেটা সেদিন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সবপক্ষ। তার আগেই হামিদুল রহমানের ঋত শিবির ত্যাগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কদিন আগে তৃণমূল বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী ঋতব্রত শিবির ছেড়ে মমতা শিবিরে যোগ দিয়েছেন। মমতাকেই নেত্রী মেনে ঋতব্রত শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন বিধায়ক রথীন ঘোষও। শিউলি সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এবার চোপড়ার বিধায়ক মমতাকেই দলনেত্রী মেনে শিবির বদল করলেন।

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান এই ঘোষণা করার পরই চোপড়া আইটিআই কলেজ মাঠে চুটিয়াখোর পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতৃত্ব-সহ দলীয় কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করলেন। মমতা শিবির ছেড়ে হামিদুল রহমান ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন এই খবরে কর্মীরা ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু এবার দলীয় বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন হামিদুল। আর চোপড়ার চুটিয়াখোর পঞ্চায়েত ও বুথ স্তরের কর্মীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন বলে প্রত্যেকটি বুথ শক্তিশালী করার ডাক দেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে নির্দেশ দেন তিনি।

তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য-রাজনীতি। আর বিধায়ক কী বলছেন? হামিদুল রহমান বলেন, ‘চিরকালই আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। তৃণমূলের প্রতীকেই নির্বাচিত হয়েছি। মমতাকেই দলনেত্রী মনে করে চলেছি। উনিই দলের হাইকমান্ড। শুধুমাত্র পরিষদীয় স্বার্থ এবং বিরোধীদের অফিস ঘর সংক্রান্ত বিষয়ে সহমত পোষণ করে সই করেছিলাম। তবে ঋতব্রতবাবু পৃথক রাজনৈতিক দল বা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেবেন এমন কোনও স্পষ্টতা তখন ছিল না।’