• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 17 June, 2026

আরজি কর মামলার তদন্তে পানিহাটির শ্মশানে গেল সিবিআই

মৃত চিকিৎসকের দেহ শ্মশানে আনার পর কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং কীভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, সেই বিষয়ে জানান চেষ্টা করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আরজি করের নির্যাতিতার দেহ কেন তড়িঘড়ি সৎকার করা হল তা জানতে সক্রিয় হল সিবিআই। বুধবার সকালে সিবিআইয়ের একটি দল পানিহাটির শ্মশানে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। বিশেষ করে, মৃত চিকিৎসকের দেহ শ্মশানে আনার পর কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং কীভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, সেই বিষয়ে জানান চেষ্টা করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।

প্রথম থেকেই আর জি করের নিহত চিকিৎসকের ঘটনার তদন্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা, প্রমাণ লোপাট করা এবং তদন্তে গাফিলতির মতো বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট হয়নি। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের মৃত্যুর পর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁর দেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়েছিল। কেন এত তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

সূত্রের খবর অনুসারে, শ্মশান কর্তৃপক্ষকে আগাম জানানো হয়েছিল যে স্থানীয় এক তরুণীর দেহ শেষকৃত্যের জন্য আনা হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে এর মধ্যেই আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। শ্মশান এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেও ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে ভিড় ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানোর উদ্দেশে কি তাড়াতাড়ি সৎকার করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শ্মশানের ম্যানেজার ভোলানাথ পাত্রের সঙ্গে কথা বলেন সিবিআই আধিকারিকরা। পাশাপাশি, সেদিনের ঘটনা নিয়েও আরও নানা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবেই কয়েক দিন আগে আরজি কর হাসপাতালেও গিয়েছিল সিবিআইয়ের দল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা সামনে আসে। যা গোটা দেশ তথা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। এই মামলায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যেই আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।

নিহতের পরিবার সম্প্রতি আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। গত মাসে হাইকোর্টে সিবিআইকে নির্দেশ দেয়, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় স্থানগুলি যার মধ্যে হাসপাতালের সেমিনার হলও রয়েছে, তা সিল করে রাখতে হবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও আরজি কর মামলা নতুন করে চালু করার কথা জানিয়েছেন। তিনজন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ফলে তদন্তে গতি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।