হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস—তিনি নাকি গোপনে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন এবং আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও সেই অভিযোগকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীর এক অজ্ঞাত বিজেপি নেতার সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরানো। তিনি দাবি করেন, এই উদ্দেশ্যে তিনি ইতিমধ্যেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এবং সেই যোগাযোগ নিয়মিত বজায় রয়েছে। পাশাপাশি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
Advertisement
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সেখানে আলোচনায় উঠে আসে যে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে, তবে মুসলিম ভোট যদি তৃণমূলের কাছ থেকে সরে আসে, তাহলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। হুমায়ুন দাবি করেন, তিনি সেই ভোট নিজের দিকে টানতে সক্ষম এবং এর ফলে সামগ্রিকভাবে বিজেপির লাভ হবে।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, মুসলিম অধ্যুষিত বহু আসনে তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, নির্দিষ্ট কৌশল ও আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা সম্ভব। প্রতিটি কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন, সফল হলে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হতে পারে।
ভিডিওতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে—যদি কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে তিনি ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন এবং সেই ক্ষেত্রে বিজেপিকেই সমর্থন করবেন। সব মিলিয়ে, এই ভিডিও সত্য হলে তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
Advertisement



