• facebook
  • twitter
Wednesday, 29 April, 2026

বিজেপির দাবি করা বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা, ইঙ্গিত সিইও মনোজ অগরওয়ালের

ফলতার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বরে বুথে পুনর্নির্বাচন করানো হোক

বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগরওয়াল জানিয়েছেন, যেসব বুথে ইভিএমে টেপ লাগানোর অভিযোগ প্রমাণিত হবে, সেখানে পুনর্নির্বাচন করা হবে। পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবাধ ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কোথাও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, প্রয়োজনে শুধু বুথ নয়, গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেও পুনর্নির্বাচন হতে পারে।

সিইও মনোজ  বলেন, ‘অবাধ ভোট করানো নিয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। যেখানে যন্ত্রের উপরে কালো বা সাদা টেপ মিলবে, সেখানে পুনর্নির্বাচন করাব। রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।’ তার পরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোনও যন্ত্রে টেপ মিললে রিপোল হবে সব বুথে। যে আসনে এ ধরনের বুথের সংখ্যা বেশি হবে, সেই পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেও রিপোল হতে পারে।’

Advertisement

বিজেপি অভিযোগ করেছে, ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় কয়েকটি বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ফলতার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বরে বুথে পুনর্নির্বাচন করানো হোক। তার পরেই মনোজ জানিয়ে দিলেন পুনর্নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা। তিনি জানান, আর কোনও বুথে ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা না হলে সেখানেও হবে পুনর্নির্বাচন। এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তিনি এও জানিয়েছেন, যে দুষ্কৃতীরা এই ধরনের কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে।

Advertisement

এদিন মনোজ অগরওয়াল বলেন, মকপোলের সময় ওই ইভিএমগুলিতে কোনও টেপ ছিল না। তাঁর মতে, ভোটগ্রহণ চলাকালীনই দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে। দোষীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। কে কতক্ষণ ইভিএমের কাছে ছিলেন, তা বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভোটারের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি জোর দেন।

এদিন ভবানীপুরেও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তৃণমূল সমর্থকদের বিক্ষোভ দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগতদের ঢোকানো হয়েছে, যদিও তৃণমূল পাল্টা অভিযোগ করে যে তিনি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। সিইও বলেন, ভোটের দিনে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিছু এলাকায় বাহিনীর লাঠিচার্জ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মনোজ অগরওয়াল জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, বাহিনী প্রথমে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, দরকার হলে তবেই শক্তি প্রয়োগ করা হয়। উল্লেখ্য, এদিন দ্বিতীয় দফায় সাতটি জেলার ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়, যার মধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলেছে।

 

 

Advertisement