তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতা থেকে সরে যেতেই দলের ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধায়কদের মধ্যে একটা বড় অংশ আলাদা হয়ে গিয়েছে। তাই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। তার উপর সাংসদদের মধ্যে একটা ভাঙন হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। এই আবহে আগেই নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর রবিবার তড়িঘড়ি রাজধানী পৌঁছে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে। আর এই বৈঠককে হাস্যকর বলে খোঁচা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এদিকে ওই বৈঠক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পান কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্বাচন লড়েছেন, তাহলে ইন্ডিয়া জোট কোথায়? রবিবার প্রশ্ন তুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। এই বিষয়ে বিজেপির এই রাজ্যসভার সাংসদ বলেন, ‘এটা একেবারেই হাস্যকর বিষয়। আজ পর্যন্ত কখনও শুনেছেন যে ইন্ডিয়া জোটের সব দল মিলে একসঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করছে? পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্বাচন লড়েছেন। তাহলে ইন্ডিয়া জোট কোথায়? এটা শুধুমাত্র কাগজে-কলমে একটা জোট। বাস্তবে এটার কোনও অস্তিত্ব নেই।’
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের যা অবস্থা তাতে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে অনেকে মনে করছেন। সেখানে একদিকে পরিষদীয় দল ভেঙে গিয়েছে। এবার সংসদীয় দলও ভেঙে যেতে পারে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই আবহে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বড় দাবি, ‘আগামী ২০ বছরে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো শুধু কঠিন নয়, একেবারে অসম্ভব হয়ে যাবে।‘ এই কথা বলে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ সব বিরোধী দলকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিজেপির রাজ্যসভার এই সাংসদ।
এছাড়া শমীক ভট্টাচার্য গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী পক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন। তবে সেই শক্তিশালী বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে উঠতে পারবে কিনা সেটা সময়ই বলবে। আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসকে দলের অন্দরের কাজিয়া সামলাতে হচ্ছে। সেসব সামলে রাজ্যে এবং জাতীয় স্তরে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে একটি সক্ষম ও দায়িত্বশীল বিরোধী পক্ষের প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ভারতবর্ষে এখন কোনও যোগ্য বিরোধী পক্ষ নেই। ইন্ডিয়া জোটের অবস্থা দেখলেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। এক একটা দল এক একদিকে টানছে, কোনও ঐক্য নেই, কোনও স্পষ্ট কর্মসূচি নেই।’




