নবান্নের সামনে ধরনায় বসতে চান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মেলেনি প্রশাসনের অনুমতি। তাই এই ধরনা কর্মসূচির অনুমতি পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়েরের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হবে।
আগামী ১৬ জানুয়ারি নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই নবান্নের সামনে ধরনায় বসতে চান শুভেন্দু সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু প্রশাসন সেই ধরনা অনুমতি দেয়নি। পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করেন শঙ্করের আইনজীবী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে বিরোধী দলগুলির সব কর্মসূচিতেই ধারাবাহিকভাবে বাধা দিচ্ছে পুলিশ।
অনেক ক্ষেত্রে আবার শেষ মুহূর্তে শর্ত চাপিয়ে কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শঙ্কর ঘোষের দাবি, নবান্নের সামনে ধরনা শান্তিপূর্ণ ও আইন মেনেই করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। কোনও অশান্তি বা যানজট সৃষ্টি করার কোনও উদ্দেশ্য তাদের নেই। তা সত্ত্বেও অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। প্রশাসন রাজনৈতিক বৈষম্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন শঙ্কর। তাঁর আরও অভিযোগ, এই কর্মসূচিতে বিরোধী দলনেতা উপস্থিত থাকবেন এই অজুহাতে প্রশাসন আরও বেশি সতর্কতার নামে কর্মসূচি আটকে দিচ্ছে।
১৪ জানুয়ারির শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয় তার দিকেই বর্তমানে তাকিয়ে আছে বিজেপি। ১৬ জানুয়ারি রাজ্য প্রশাসনের সদর দরজার সামনে বিরোধী শিবির ধরনায় বসতে পারবেন বলেই আশাবাদী দল। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূল দিল্লিতে গিয়ে বিনা অনুমতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে ধরনায় বসতে পারলে বিজেপি কেন নবান্নের সামনে ধরনায় বসতে পারবে না? যদিও শুভেন্দুর এই নবান্ন অভিযান কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের কটাক্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ অনুসরণ করেই রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু।
Advertisement