যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের ভোটে ত্রিমুখী লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে। বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে এবার সিপিএম প্রার্থী করেছে বাম শিবির। অতীতে লোকসভা ভোটে লড়াই করলেও এবার বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে ভরসা রেখেছে বিদায়ী বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের উপর। উন্নয়নমূলক কাজ ও জনসংযোগকে সামনে রেখেই প্রচারে জোর দিচ্ছে তৃণমূল শিবির। বিজেপির প্রার্থী অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও প্রচারে নেমে এই লড়াইকে আরও জোরালো করে তুলেছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে যাদবপুরে ভোটগ্রহণ হবে। ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। তার আগেই প্রার্থীদের সম্পত্তির হলফনামা ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা।
Advertisement
হলফনামা অনুযায়ী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। তাঁর নামে কোনও এফআইআরও হয়নি। নগদ হিসেবে তাঁর হাতে রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা। ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানত, পিপিএফ-সহ মোট সাতটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর নামে। এর মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ তহবিলের অ্যাকাউন্টও অন্তর্ভুক্ত।
Advertisement
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একাধিক জায়গায় অর্থ লগ্নি করেছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ইভা ভট্টাচার্যের নামে রয়েছে চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যেখানে নগদ রয়েছে ২২ হাজার ৮৫০ টাকা। গাড়ির ক্ষেত্রেও নজর কাড়ছে তথ্য। ২০১৫ সালে ৩ লক্ষ টাকায় একটি গাড়ি কেনার পর ২০২৫ সালে ৭২ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনেন বিকাশরঞ্জন। বর্তমানে এই দুটি গাড়িই তিনি ব্যবহার করেন।
গয়নার হিসাবেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাঁর পরিবারের। স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৬০০ গ্রাম সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০০ টাকা। সব মিলিয়ে বিকাশরঞ্জনের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৮৮ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৪৯ টাকার।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নিজের নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই বিকাশরঞ্জনের। এমনকি নিজের নামে কোনও বাড়িও নেই। যদিও তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে দুটি বাড়ি, যার মোট মূল্য ৫ কোটি ১৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৮০ টাকা। এছাড়া, হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে যে, বিকাশরঞ্জনের কাছ থেকে তাঁর স্ত্রী ৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও দীর্ঘ পথ পেরিয়েছেন তিনি। কালীঘাট হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে আশুতোষ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক হন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় আইনজীবী এবং তাঁর স্ত্রী খাদ্য পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।
সব মিলিয়ে যাদবপুর কেন্দ্রে এবার শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, প্রার্থীদের আর্থিক তথ্যও ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উন্নয়ন ও জনসংযোগের দিক থেকে তৃণমূলই এই কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে।
Advertisement



