ফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ ছাড়া নিয়ে একটা জলঘোলা শুরু হয়েছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ, বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুরসভার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। হঠাৎ কেন পদত্যাগ করলেন তিনি? এই বিষযে জিজ্ঞাসা করা হলে কোনও সুস্পষ্ট উত্তর দেননি। বরং ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলেন তিনি এমনটাই জানিয়েছেন। আজ দুপুরেই বিধাননগর পুরসভার কমিশনারকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর থেকে দলের অন্দরে তোলপাড় কাণ্ড শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দলের বিধায়কদের একটা বড় অংশ একজোট হয়ে আসল তৃণমূল পরিচয় দিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে ফেলেছেন। বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এভাবে দল ভাঙতে শুরু করে দিয়েছে। সেখানে আজ এমন ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠছে, বিধাননগর পুরসভাও কি তৃণমূলের হাতছাড়া হচ্ছে?
ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। একের পর এক নেতা দল ছাড়তে শুরু করেছেন। জাঙ্গিপাড়ার নেতা তথা প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী আজ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তার মধ্যেই বিধাননগর পুরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। কৃষ্ণা চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। দলনেত্রীকে কি জানিয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, যেখানে জানানোর সেখানে জানিয়েছি।
ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পুরসভা থেকে চেয়ারম্যান, পুরপ্রধান পদত্যাগ করেছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল বিধাননগর পুরসভা। গত ২৩ মে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ২ জুন একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সচিন সিংহ এবং ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস, কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল। এই আবহে পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। আর এই বিষয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। নিজের জন্য সময় দরকার। কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করব। বিধাননগরের মানুষের কাছে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমি কৃতজ্ঞ। কারও প্রতি কোনও অভিমান নেই। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।’




