২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই বিজেপি বিধায়কের। ফলে ‘আন ম্যাপিং’-এর নোটিস পেয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজির হলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার। শুক্রবার বনগাঁ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সিনিয়র মাদ্রাসায় আয়োজিত শুনানি কেন্দ্রে সশরীরে হাজির হন তিনি। তাঁর সঙ্গে পরিবারের আরও ছ’জন সদস্যকেও একই কারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় স্বপন মজুমদারের নাম নেই। শুধু তাই নয়, তাঁর দুই ভাই, এক দাদা ও মা-সহ পরিবারের মোট ছ’জনের নাম ওই তালিকায় অনুপস্থিত। সেই কারণেই কমিশনের তরফে তাঁদের ‘আন ম্যাপিং’ করা হয়েছে এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, স্বপন মজুমদারের বাড়ি বনগাঁর গোপালপুরের পাল্লাবাজার এলাকায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব স্বপন মজুমদার এবং বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশি পরিচয়ের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছিল। সেই সময় বনগাঁর মহকুমা শাসকের দপ্তরেও অভিযোগ জানানো হয়।
Advertisement
এই এসআইআর-এর জেরে স্বপন মজুমদারের পরিবারের ইতিহাস ঘিরেও নানা তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, তাঁদের আদি বাড়ি বাংলাদেশে। দেশভাগের পরে তাঁরা ভারতে চলে এলেও স্বপনের বাবা দীর্ঘদিন নিয়মিতভাবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতেন। পরিবার সূত্রের দাবি, ১৯৮০ সালেই তাঁরা পাকাপাকিভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন। ২০০২ সালের অনেক আগেই স্বপনের বাবার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাঁর বৃদ্ধা মা গোপালনগরের বাড়িতেই থাকেন।
অন্যদিকে, এই শুনানি ঘিরে বনগাঁ জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস দাবি করেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম স্বপন মজুমদার বাংলাদেশের বাসিন্দা। অবৈধভাবে এ দেশে এসে ভোটার হয়েছেন। এখন নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে কমিশনের শুনানিতে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে।’ কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, জমা পড়া নথি যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাবার মৃত্যুর পরে স্বপন মজুমদার কর্মসূত্রে মুম্বই এবং পরে গুজরাতেও ছিলেন। শুক্রবার শুনানির পর স্বপন বলেন, ‘আমার কাছে ১৯৯৯ সালের পাসপোর্ট রয়েছে। বাবার মৃত্যুর শংসাপত্রও জমা দিয়েছি। শুনানিতে প্রয়োজনীয় সব নথি দেখানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় মতুয়া সমাজের বড় অংশের সমস্যা হবে না। তবে প্রায় পাঁচ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে নথি জোগাড় করতে অসুবিধা হতে পারে। ভোট সব কিছু নয়, দেশের স্বার্থই আগে।’
Advertisement



