পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, বিদায়বেলায় সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় নিজের জন্মভূমি কেরলে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল।
সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করার পরই নিজের সমাজমাধ্যমের বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগের খবর আমাকে অত্যন্ত বিস্মিত করেছে। আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর পদত্যাগের প্রকৃত কারণ আমার জানা নেই।’
Advertisement
তবে মুখ্যমন্ত্রী শুধু বিস্ময় বা উদ্বেগ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনও চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে। মমতার কথায়, ‘নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্য কোনও অঙ্ক আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।’
Advertisement
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই কলকাতার রাজভবন কর্তৃপক্ষ সমাজমাধ্যমে সিভি আনন্দ বোসের একটি বিদায় বার্তা প্রকাশ করে। সেই বার্তায় প্রাক্তন রাজ্যপাল বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বাংলায় আমার অধ্যায় শেষের পথে। এই রাজ্যের মানুষের কাছ থেকে আমি অনেক ভালোবাসা এবং সম্মান পেয়েছি। কিন্তু এবার বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে কাজ করতে আমি কেরলে যাচ্ছি। জাতীয় নেতৃত্বের দেখানো পথেই নিজের রাজ্যের মানুষের উন্নয়নে কাজ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নতুন দায়িত্বকে আমি আমার গুরুতর কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি। এটিকে আমি কেরলের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবেও দেখছি, যাঁরা আমাকে মানুষ করে তুলেছেন। আমি সেই মানুষগুলির জন্য কাজ করব।’
এই বার্তা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোটমুখী কেরলে তিনি ঠিক কী দায়িত্ব পেতে চলেছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সব মিলিয়ে সিভি আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগ এবং কেরলে যাওয়ার ঘোষণা রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



