একইদিনে রাজ্যের দুই প্রান্তে সভা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ। শনিবার ব্যারাকপুরে প্রথমে সভা করেন। সেখানে সভা শেষ করে শিলিগুড়ির এয়ারফোর্স ময়দানে সভা করেন শাহ। ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি, মহিলাদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। কিন্তু শিলিগুড়িতে তাঁর ভাষণের মূল উপজিব্য ছিল ‘বন্দে মাতরম’, বাম শাসনের তুলনা এবং রাজ্যের সামাজিক ঐক্য ভাঙার অভিযোগ।
সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনার সময় তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধিতা করেছিল বলে শিলিগুড়ি থেকে দাবি করেন শাহ। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে বুঝতেই পারছিলাম না, কেন বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করা হচ্ছে। পরে তৃণমূলেরই এক সাংসদ আমাকে বললেন, তাঁদের অনুপ্রবেশকারী ভোটব্যাঙ্ক বন্দে মাতরম নিয়ে অসন্তুষ্ট। তাই বিরোধিতা। লজ্জা করুন মমতা— ভোটব্যাঙ্কের জন্য বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করছেন।‘
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আক্রমণের সুর চড়িয়ে শাহ বলেন, ‘মমতাদির যাওয়ার সময় এসে গিয়েছে। আপনার থেকে কমিউনিস্টরাই ভালো ছিল।‘ অমিত শাহ আরও বলেন, ‘কমিউনিস্টদের থেকে মুক্তি পেতে তৃণমূল সরকারকে এনেছিল বাংলার মানুষ। কমিউনিস্টরা এর চেয়ে ভালো ছিল। তৃণমূল এসে ওদেরও ভালো করে দিয়েছে। বাম সরকার বাংলাকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল, তৃণমূল তাকে আরও পিছিয়ে দিয়েছে। এবার তৃণমূলকে বিদায় নিতে হবে। বছরটা আপনাকে টা টা বাই বাই বলার সময়।‘
Advertisement
তাঁর অভিযোগ, গোর্খা-বাঙালি, আদিবাসী-কুর্মী— বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রাজ্যের সামাজিক ঐক্যকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘মমতাদি, আপনার সময় শেষ।‘
সামনেই রাজ্যের বিধানসভা ভোট। ভোটের কথা মাথায় রেখে শিলিগুড়ি সভা থেকে তৃণমূল সরকারকে ‘সমূলে উৎখাত’ করার ডাক দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাসকদলের ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগানকেও কটাক্ষ করেন তিনি। রাজ্যে মহিলারা নিজেদের সুরক্ষিত মনে করেন না বলেও দাবি করেন শাহ।
শিলিগুড়ির সভা থেকে অমিত শাহ বিজেপি কর্মীদের খুন করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সারা দেশে বিজেপি এবং এনডিএ-র ২১টি সরকার রয়েছে। আর বাংলায় রয়েছে তৃণমূল সরকার। এই রাজ্যে তাঁদের ৬০ জন কর্মীকে খুন করা নিয়ে সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি কর্মীরা এ বিষয়ে চুপ থাকবে না বলেও জানান তিনি। তাঁর মন্তব্য, ২১টি সরকার গঠনের পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খুশি নন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পরেই তাঁর মুখে হাসি ফুটবে বলেও জানিয়ে দেন শাহ।
শিলিগুড়ির সভা থেকেও তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়েও সরব হন শাহ। সভা থেকে নাম না করে ২৩ জন অভিযুক্ত নেতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি দুর্নীতিকে সমর্থন না করেন, তা হলে এঁদের কাউকে ভোটের টিকিট দেবেন না। তা হলেই বুঝব আপনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে।‘ কটাক্ষ করে আরও বলেন, ‘উনি টিকিট দেবেনই। না দিলে ওরা ভাইপোর নাম বলে দেবে।‘
শিলিগুড়ি থেকে বামদের প্রশংসায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভোটের আগে রাম-বাম আঁতাঁতের ইঙ্গিতই কি দিলেন শাহ? নাকি তৃণমূলের বিরোধিতায় মুখ ফসকে প্রশংসা করে ফেলেছেন? অমিত শাহর মুখে বাংলার সিপিএম জমানার এহেন স্তূতি ঠিক কীসের ইঙ্গিত, ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
Advertisement



