বিধানসভা নির্বাচনের মুখে উত্তরবঙ্গের ফালাকাটার জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সভা থেকে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ‘প্যায়দা’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই তাঁকে দল থেকে সরিয়ে আলাদা করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই মন্তব্যের পাল্টা হিসেবে তৃণমূল শিবিরে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। শাসকদলের মতে, নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এ ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা বলেও দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। একই সভায় অমিত শাহ আরও বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে উন্নয়নের বদলে শুধুই ‘পরিবারতন্ত্র’ জোরদার করা হয়েছে। যদিও কারও নাম না করেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোকে ইঙ্গিত করেন।
Advertisement
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের বক্তব্য, রাজ্যে উন্নয়ন, পরিকাঠামো ও সামাজিক প্রকল্পে যে কাজ হয়েছে, তা দেশের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় অনেক এগিয়ে। মানুষের আস্থা নিয়েই তারা নির্বাচনে নামছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সভা থেকেও অমিত শাহ অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ভোটে জিতলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
তবে এই মন্তব্যের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, বাংলার মাটিতে বিভাজনের রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের বক্তব্যে উত্তাপ আরও বাড়বে। তবে শেষ পর্যন্ত মানুষের রায়ই ঠিক করবে কোন পথে যাবে বাংলা।
Advertisement



