কথা রাখলেন অভিষেক। দুই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি গিয়ে দেখা করে আসবেন বলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারম সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সেই কথা রাখলেন তিনি। মহারাষ্ট্রে জেল থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যান তৃণমূল সাংসদ। প্রায় কুড়ি মিনিট দুই পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলেন। শোনেন তাঁদের কষ্টের কথা।
দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্রে কাজ করতেন অসিত ও গৌতম। গত বছরের এপ্রিল মাসে বাংলা বলার অপরাধে অবৈধ অভিবাসী আইনে বালুরঘাটের বাসিন্দা অসিত ও গৌতমকে গ্রেপ্তার করে মুম্বই পুলিশ। অপমান ও হয়রানির শিকার হন তাঁরা। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের জন্যই জেল থেকে বার হতে পেরেছেন তাঁরা। অভিষেক ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে ধন্যবাদ জানান দুই পরিযায়ী শ্রমিক।
Advertisement
তপনের অসিত সরকারের বাড়িতে এ দিন অভিষেকর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতি পুলক চক্রবর্তী। লক্ষ্মীপুর গ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিষেকের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা। তিনি জানান, অসিতদের ছাড়িয়ে আনতে তিনি বেশ কয়েক বার সুকান্তের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রতি বারই ‘দেখছি’ বা ‘চেষ্টা করছি’র বেশি কিছু বলা হয়নি। তার পরেই তিনি এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান পুলক।
Advertisement
বালুরঘাটের দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার এবং গৌতম বর্মণ। গৌতম গঙ্গারামপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, স্বামীকে জেলমুক্ত করতে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। তার পরেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। অভিষেকের সামনে অভিযোগ করেন গৌতমও। তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্রে আটক হওয়ার পরে আমরা ফোন করেছিলাম। বিজেপির কেউ ফোন ধরেননি। সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও কোনওরকম সাহায্য করেননি।‘
প্রত্যেকের কাছ থেকে মুক্তির শর্তে ১.৫ লক্ষ টাকা করে দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অসিত ও গৌতম। সেই সময়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও সাংসদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।তাঁদের কথা শুনে অভিষেক বলেন, ‘বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মহারাষ্ট্রের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের পরিবার স্থানীয় সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কাছে গিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রে বিজেপি, সুকান্ত কেউ কিছু করেননি। আমরা জানতে পেরে কাঠখড় পুড়িয়ে ছাড়িয়ে এনেছি।‘
অভিষেক আরও বলেন, ‘এখানে তৃণমূল, বিজেপি কীসের। রাজনীতি করা মানে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছে তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব, কর্তব্য নেই?’ এদিন বালুরঘাট থেকে সুকান্তবাবুকে ‘ফ্যাশন শোয়ের মাস্টার’, ‘স্টপেজ মিনিস্টার’ বলেও কটাক্ষ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সুকান্তর উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘জেলার উন্নয়নের জন্য আপনি কী কাজ করেছেন, তা মানুষ জানতে চায়। রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুন। আপনি শুধু ট্রেনের স্টপেজ তৈরি করতে জানেন। আপনাকে র্যাম্পে হাঁটার জন্য আর ট্রেনের স্টপেজ তৈরি করার জন্য মানুষ ভোট দেয়নি।‘
এসআইআর নিয়েও ফের বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘বাংলায় জিততে না-পেরে এসআইআরের নামে মানুষকে হেনস্থা করছে।‘ বাংলায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের কত জন বাংলাদেশি, আর কত জন রোহিঙ্গা প্রশ্ন অভিষেকের। এসআইআরের জন্য দু’মাসে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘এই মৃত্যুর দায় কার? বাংলার উপর কিসের এত রাগ বা অবজ্ঞা?’ বিকেলে ইটাহারে রোড শো করেন অভিষেক। সেখানেও বিজেপিকে আক্রমণ শানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে শুধু নির্বাচনে হারালে চলবে না, বুথ থেকেও উৎখাত করতে হবে।‘
মঙ্গলবার রামপুরহাটে জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা শেষে তারাপীঠে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে গিয়ে পুজো দেন। তারপর হাসপাতালে সোনালি বিবির সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনালির ছেলের নাম রাখেন ‘আপন’। এদিনও সোনালির প্রসঙ্গ তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, একজন অন্তস্বত্ত্বা মহিলাকে যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাংলায় কথা বলাই ওর একমাত্র দোষ বলে জানান তৃণমূল সাংসদ। সেই সঙ্গে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে কাজে না যাওয়ার পারমর্শ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
Advertisement



