• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 3 June, 2026

হাইকোর্টে গেলেন অভিষেক

কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচের আবেদনও জানিয়েছেন। সিআইডি-র নোটিস খারিজের আবেদন জানিয়েছেন।

বিধায়কদের সই জালিয়াতি সংক্রান্ত বিতর্কে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি-র পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের কাছে রক্ষাকবচের আবেদনও জানিয়েছেন।

বুধবার বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দেন। আদালত সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। ফলে এখন রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলের নজরও রয়েছে হাইকোর্টের আসন্ন শুনানির দিকে।

বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল চর্চা চলছে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠিয়েছিল সিআইডি। গত ১ জুন তাঁকে ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি হাজির হননি।

জানা গিয়েছে, সিআইডি-কে পাঠানো এক চিঠিতে অভিষেক নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে হাজিরা দিতে অপারগতার কথা জানান। এরপর ওই দিন বিকেলেই তদন্তকারী সংস্থার একদল আধিকারিক তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছন। যদিও তাঁরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাড়ির এক প্রতিনিধি বাইরে এসে সিআইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে নোটিস গ্রহণ করেন।

পরে জানা যায়, নতুন নোটিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৮ জুন ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নোটিসের বৈধতাকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। নোটিস বাতিলের আবেদন করার পাশাপাশি তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এদিকে, এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে বলে জল্পনা। দলের একাংশের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তোলার তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে পৌঁছেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা।

এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।