• facebook
  • twitter
Wednesday, 14 January, 2026

উন্নয়নের পাঁচালী ও মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি নিয়ে রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে অভিষেক

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রস্তুতিতে গতি বাড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দল হিসেবে গত দেড় দশকে যে সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু হয়েছে, সেগুলিকেই ফের একবার জনতার সামনে তুলে ধরতে শুরু হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচিরই অঙ্গ হিসেবে বুধবার নিজে পথে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রস্তুতিতে গতি বাড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দল হিসেবে গত দেড় দশকে যে সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু হয়েছে, সেগুলিকেই ফের একবার জনতার সামনে তুলে ধরতে শুরু হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচিরই অঙ্গ হিসেবে বুধবার নিজে পথে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ভবানীপুরে বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রবীণ বিধায়ক তথা পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বাড়ির দরজায়ই সস্ত্রীক অভিষেককে স্বাগত জানান রঞ্জিত মল্লিক। ভিতরে ঢোকার আগে অভিনেতা ও তাঁর স্ত্রী দীপা মল্লিক—দু’জনেরই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন অভিষেক। এরপর তাঁদের হাতে তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড, যা ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ নামেই পরিচিত।
বাড়ির অন্দরমহলে কিছু সময় কাটান অভিষেক। মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি সহ রিপোর্ট কার্ড হস্তান্তরের পাশাপাশি পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও সৌজন্যমূলক কথাবার্তাও হয়। রঞ্জিত মল্লিকের ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রে রঞ্জিত মল্লিকের অবদান সময়ের সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং আগামী কয়েক শতাব্দী ধরেই তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি জানান, নিজে যে ক’টি সিনেমা দেখেছেন, তার অধিকাংশই তাঁর জন্মের আগের সময়ের, যা থেকেই শিল্পে অভিনেতার দীর্ঘ ও গৌরবময় উপস্থিতি স্পষ্ট। সেই উপলক্ষেই রাজ্য সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়নমূলক কাজের একটি বিস্তারিত রিপোর্ট কার্ড তিনি রঞ্জিত মল্লিকের হাতে তুলে দেন। অভিষেকের বক্তব্য, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও পর্যটন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই দেড় দশকে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা চরম অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হয়েছে।
২০২১ সালের পর একদিকে একাধিক সিবিআই মামলা ও বিচার ব্যবস্থার চাপ, অন্যদিকে কেন্দ্রের কাছে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে রাস্তা-ঘাট, আবাস যোজনা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো যুগান্তকারী প্রকল্প সফলভাবে চালু রাখা হয়েছে। এই সমস্ত কর্মসূচির কথা শুনে রঞ্জিত মল্লিক তা আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেছেন বলেও জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর তিনি পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশে সেখান থেকে রওনা হন।
অভিষেক সোজা চলে যান নন্দনে গিয়ে সেখানে পরিচালক ও ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেন  ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটের আগে দলের কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ‘উন্নয়নের পাঁচালী’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে রাজ্যে যে সামাজিক সুরক্ষা, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি চালু হয়েছে, তার সামগ্রিক খতিয়ান একত্র করে এই রিপোর্ট কার্ড তৈরি করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—গ্রাম থেকে শহর, প্রতিটি ভোটারের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের কথা তুলে ধরেছে শাসক দল। তবে এবার আলাদা করে গোটা তৃণমূল জমানার কাজকে এক ছাতার তলায় এনে সাধারণ মানুষের সামনে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের কর্মীরা সেই টিমে যুক্ত থাকছেন। তাঁদের হাত ধরেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ বাক্স।
রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ির আগে এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর বাড়িতেও পৌঁছেছে উন্নয়নের পাঁচালী। সেখানে বাক্স তুলে দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হক। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই মুহূর্তের ছবি ও তথ্যও শেয়ার করেন তিনি।
তিনবার ক্ষমতায় আসার পর চতুর্থবারের জন্য মসনদ দখলের লক্ষ্যে এবার উন্নয়নকেই প্রধান অস্ত্র করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ সেই কৌশলেরই প্রকাশ। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি মানুষের কাছে এই উন্নয়নের হিসেব পৌঁছে দেওয়াই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।

Advertisement

Advertisement