ব্যাগে তল্লাশি করেই চোখ কপালে উঠল পুলিশের। অশোকনগর থানা এলাকায় এক মহিলার ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল সিআইডির বিশেষ দল। অশোকনগরে রবিবাসরীয় সকালে এই ঘটনার মধ্যে দিয়েই বড় অস্ত্র পাচারচক্রের হদিশ পেল সিআইডি। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের ৮ নম্বর এলাকায় সিআইডি গ্রেপ্তার করল সন্দেহভাজন এক মহিলাকে। বাংলাদেশে অস্ত্র পাচার করতেই ওই মহিলা সেখানে এসেছিল বলে খবর। কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ওই মহিলা জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
এই খবর চাউর হতেই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সাধারণত কোনও মহিলাকে সন্দেহ করা হয় না। সেখানে যদি মহিলাই জড়িত থাকে এসব কাজে তাহলে সাধারণ মানুষের জীবন নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অশোকনগর থানার ৮ নম্বর মোড় এলাকায় সিআইডি এবং অশোকনগর থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত মহিলার নাম পূজা বিশ্বাস (৪৬)। পূজা হাবরা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। ধৃত মহিলার কাছ থেকে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার সঙ্গে প্রায় ২০০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে ওই মহিলার কাছ থেকে বলে জানা গিয়েছে।
এই পূজা বিশ্বাসের কাছ থেকে যে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে চারটি ৭ এমএম এবং দুটি নাইন এমএম। ধৃতের কাছ থেকে যে পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছে তাতে ধৃতের নাম পূজা বিশ্বাস বলেই জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত হাবড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি তদন্তকারীদের। সিআইডি সূত্রে খবর, নৈহাটি রোড ধরে অশোকনগর হয়ে একটি ম্যাজিক গাড়িতে এসেছিলেন ধৃত পূজা। ৮ নম্বর মোড়ের কাছে ওই গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার সময় মহিলার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি ৭ এমএম এবং দুটি নাইন এমএম পিস্তল। আরও উদ্ধার হয়েছে ১২টি ম্যাগাজিন, প্রায় ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১২ হাজার টাকা নগদ এবং দুটি মোবাইল ফোন। ধৃত মহিলার কাছ থেকে বিহারের জামালপুরের একটি ট্রেনের টিকিটও মিলেছে।
তাছাড়া পূজা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আগেও দত্তপুকুর থানায় মামলা ছিল এবং তিনি আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে সিআইডির অনুমান, বিহারের মুঙ্গের এলাকা থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এনে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে বিক্রি করার ছক ছিল। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বিহার থেকে নৈহাটি হয়ে হাবরায় পৌঁছনোর আগেই পূজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনও বড় অস্ত্র পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা সেটা জানতে ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের আগে সিআইডি টিমের কাছে ধরা পড়ে সে। এই চক্রের নেপথ্যে কারা জড়িত রয়েছে এবং আরও কোথায় এই অস্ত্র পাচার করা হতো তা জানতে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে পূজাকে। বিহার যোগ এবং অস্ত্র পাচার নেটওয়ার্কের সন্ধানেও তদন্ত করবে সিআইডি। ধৃত পূজাকে এদিনই বারাসত কোর্টে পেশ করা হয়েছে।
জামালপুর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির আর্মস ছিল পূজার কাছে। ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে। কোনও কম আছে কিনা এবং কোন ব্যাচের আর্মস এই ডিটেইলস জানতে চেয়েছে পুলিশ। দত্তপুকুর আর্মস রিকভারি কেসে আগে গ্রেপ্তার হয়েছিল পূজা। এই ঘটনায় ৪ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। একজন ডিআইজি’র নেতৃত্বে। ভোট পরবর্তী সময়ে এত আর্মস কেন এবং কী জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? সেটাই মূল জানার উদ্দেশ্য। জামালপুর থেকে বেরোনোর পর কোন রুটে কোথায় কার কাছে যাচ্ছিল সেটাই ট্র্যাক করে জানার চেষ্টা করছে সিআইডি। রেইড অর্গানাইজ করেছে ডিআইজির নেতৃত্বে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। লোকাল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই রেইড করা হয়েছে। বিহার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট এবং সোর্স ইনফর্মেশনের উপর জোর দিচ্ছেন নতুন ডিজি সিআইডি নটরাজন রমেশবাবু।




