বীরভূম জেলায় এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্ক ঘিরে একাধিক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ময়ূরেশ্বরের কুনুটিয়া গ্রামে ৫৮ বছর বয়সী সাদত আলি-র অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে পরিবারের দাবি, এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কাই তাঁর মৃত্যুর কারণ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরের খসড়া তালিকায় তাঁদের পরিবারের আটজনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে ছিল। প্রয়োজনীয় নথিপত্রও জমা করা হয়েছিল। কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, পরিবারের ওই আটজনের নামই বাদ গেছে।
Advertisement
এতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেন সাদত আলি। পরিবারের দাবি, তিনি বারবার জানতে চাইছিলেন—এরপর কী হবে, নাম না থাকলে কি দেশ ছাড়তে হবে? এই দুশ্চিন্তায় তিনি গত দু’দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বুধবার সকালে তাঁর মৃতদেহ ঘর থেকে উদ্ধার হয়।
Advertisement
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে মল্লারপুর এলাকার গৌরবাজারে। সেখানে অর্চনা বিবি নামের এক মহিলার মৃত্যুর ক্ষেত্রেও পরিবারের দাবি, এসআইআর তালিকায় নাম না থাকায় সৃষ্ট আতঙ্কই তাঁর মৃত্যুর কারণ। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল মৃত্যুগুলিকে দুঃখজনক বললেও এর কারণ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে চাননি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা প্রমোদ রায় পাল্টা অভিযোগ করেন, মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি।
এসআইআর তালিকা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনাগুলি তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রশাসনের তরফে ট্রাইবুনালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও, বহু মানুষের মনে এখনও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে।
Advertisement



