সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হবে, তাঁরা প্রথম দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। সেই নির্দেশ মেনে বুধবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মাত্র ১৩৯ জন নতুন করে ভোটাধিকার পেয়েছেন এবং তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ট্রাইব্যুনালের নিষ্পত্তি করা ‘অ্যাডিশন’ এবং ‘ডিলিশন’ (যোগ এবং বাতিল) দু’টি তালিকাই প্রকাশ করা হয়েছে।ceowestbengal.wb.gov.in-এর ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে এই তালিকা। ভোটাররা এপিক নম্বরের মাধ্যমে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে তাঁদের নাম প্রথম দফার অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল সাপ্লিমেন্টারি (অতিরিক্ত) লিস্টে উঠেছে কি না তা চেক করতে পারবেন।
যে বুথগুলিতে ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি হয়নি, সেই বুথের নাম সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে ‘ক্লিক’ করলে জানা যাবে। নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা থেকে ৮ জনের নাম বাদও পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক সপ্তাহে এত অল্প সংখ্যক নাম নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর বক্তব্য, লক্ষাধিক আবেদনকারীর তুলনায় এই সংখ্যা নগণ্য এবং এতে বহু মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল। যেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সেই তালিকা পর্যালোচনা করেন। যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া নামের ভিত্তিতে প্রথম দফা এবং ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিষ্পত্তির ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা নির্ধারিত হবে।
এদিকে, তালিকায় ৮ জনের নাম বাদ পড়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ আগে জানানো হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট ভোটারের বক্তব্য না শুনে কোনও নাম বাতিল করা হবে না।অন্যদিকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা দাবি করেছেন, যথাযথ নথি না থাকায় বহু নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর মতে, যাঁরা সঠিক তথ্য জমা দিতে পারছেন, তাঁদের নামই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথম দফার ভোটের আগে মাত্র ১৩৯ জনের নাম তালিকায় স্থান পাওয়ায় বাকি আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইনজীবী ঝুমা সেন এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মঙ্গলবারও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলাটি করেছিলেন শেখ আনোয়ার আলি।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় যে আসনগুলিতে ভোট রয়েছে, এসআইআর শুরু হওয়ার আগে সেখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৮০১। নিষ্পত্তির পরে শেষ পাওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, ওই আসনগুলিতে ভোটারের সংখ্যা হল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১। বিবেচনাধীনের তালিকায় থাকা যে ভোটারদের নাম বিচারকদের নির্দেশে ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন।




