• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 5 June, 2026

১০০ দিনের টাকা গরিবের অধিকার, আটকে রাখা ঠিক নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

কোনও অজুহাত দেখিয়ে এই অর্থ আটকে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য

ফাইল চিত্র

১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য টানাপড়েনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও বাংলার প্রাপ্য অর্থ না মেলায় দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল স্পষ্টভাবে জানান, গরিব মানুষই ১০০ দিনের কাজ করেন এবং তাঁদের শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক সময়মতো পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোনও অজুহাত দেখিয়ে এই অর্থ আটকে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বকেয়া ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্র সরকারকে মিটিয়ে দিতেই হবে। সেই নির্দেশের পরও এখনও রাজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ ছাড়ছে না। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে গড়ায়।

শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গরিব শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হয়েছে, যা সংবিধানসম্মত অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পাল্টা কেন্দ্রের আইনজীবী প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত হতে পারে, কিন্তু তার দায় গরিব শ্রমিকদের ওপর চাপানো যায় না।

বিধানসভা ভোটের মুখে হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের অভিযোগ, কেন্দ্র অনৈতিকভাবে বাংলার গরিব মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। অন্য দিকে বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনড়। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, অনিয়মের কারণেই রাজ্যের বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে।

সব মিলিয়ে ১০০ দিনের কাজ ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আপাতত চলছেই। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর কেন্দ্র আদৌ বকেয়া অর্থ ছাড়ে কি না, সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেও সবার কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্য জুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা এখন।