দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ ছিল পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। তবে তৃণমূল সরকারের আমলে দলের সেই নেতার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালা বদল হতেই বদলে গেল পরিস্থিতি। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার আমডাঙা, সালানপুর ও কালীতলা এলাকায় একযোগে চিরুনি তল্লাশি চালায় বিদ্যুৎ দপ্তরের রূপনারায়ণপুর বিভাগ। সেই অভিযানে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন পড়ে সালানপুর পঞ্চায়েত প্রধানের পরিবারের বাড়িকে ঘিরে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের দাবি, সংশ্লিষ্ট বাড়িতে বৈধ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল সরাসরি মূল লাইনে হুকিং করে। অভিযানে গিয়ে আধিকারিকেরা দেখতে পান, বাড়িতে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) চালানো হলেও তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদিত অতিরিক্ত লোড নেওয়া হয়নি। তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বৈধ সংযোগের বাইরে অবৈধ উপায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছিলেন তিনি। বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির সংযোগ রয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান দীপিকা বাউড়ির আত্মীয় সোমনাথ বাউড়ির স্ত্রী ঝর্না বাউড়ির নামে। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে তিন লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি থানায় এফআইআরও দায়ের হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী ফুচু বাউড়ির বক্তব্য, বাড়িতে এসি বসানোর পর অতিরিক্ত লোডের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। সে কারণেই তাঁরা বিষয়টি বিদ্যুৎ দপ্তরকে জানাননি। শুধু এই একটি বাড়িই নয়, এই অভিযানে আমডাঙার এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে ৭২ হাজার টাকা এবং কালীতলার আর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পথে হাঁটছে বিদ্যুৎ দপ্তর।
অভিযান শেষে বিদ্যুৎ দপ্তরের সাফ জানিয়েছে, হুকিং করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হবে। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে একের পর এক তৃণমূল নেতার চুরির নানা কীর্তি সামনে আসছে। আর তা দেখে রীতিমত অবাক বিজেপি নেতা থেকে শুরু করে আমজনতা। ত্রাণের বালতি থেকে শুরু করে একাধিক জিনিস চুরি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতারা। আর অনেকে মনে করছেন এবারে যদি পালা বদল না হত তাহলে এই চুরির পরিমাণ হয়তো আরও বাড়তো।




