• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 5 June, 2026

‘চেয়ার আঁকড়ে বসে থাকতে পারব না’, মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ

আজ, শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিলেন ফিরহাদ হাকিম।

কলকাতা পুরসভা থেকে আজ, শুক্রবার পদত্যাগ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। দুপুর ৩টেয় সাংবাদিক বৈঠক করে পদত্যাগ করলেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। আজ সব জল্পনা-গুঞ্জনে জল ঢেলে দিয়ে পদত্যাগ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বিধাননগর পুরসভার পর এবার কলকাতা পুরসভার মেয়রের ইস্তফা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালে আগের মেয়রের পদত্যাগের পরে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই থেকেই এই পদে ছিলেন তিনি।

আজ, শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিলেন ফিরহাদ হাকিম। এখন থেকে তিনি আর কলকাতা পুরসভার মেয়র নন। চিঠি লিখে পদত্যাগ করলেন তিনি। পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে। যদিও মালা রায় ঘরে ছিলেন না। সেখানে চিঠি রেখে চলে যান। এই পদত্যাগ করার সময় কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। আর বেশ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে বলেও জানিয়ে দেন ফিরহাদ হাকিম।

এদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কদিন আগেই পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তারপর নানা আলোচনা হলেও শেষে ফিরহাদের সিদ্ধান্ততে সম্মতি দেন মমতা। আর আজ মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদের ইস্তফার খবর পেয়ে হতাশ তৃণমূলের কাউন্সিলররা। পদত্যাগের সময় ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘ফিরহাদ হাকিম কেউ নয়। চেয়ারের অসম্মান করতে পারি না। ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। এভাবে হয় না। অনেকে আমার থেকে দাপুটেভাবে এই পদ সামলেছেন। আগামী দিনে যাঁরা দায়িত্ব নেবেন, তাঁদের জন্য শুভেচ্ছা রইল। চেয়ার আঁকড়ে বসে থাকতে পারব না। যে কাজটা মেয়রের চেয়ারে বসে করতে পারছিলাম, তা এখন আর পারছি না। তাই ইস্তফা দিচ্ছি। অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেল।’

অন্যদিকে টানা আট বছর মেয়র পদে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। দুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বিধায়ক হিসাবে। তিনি কলকাতা বন্দরের বিধায়ক। এখন শুধু এই পদটিই রইল। পদত্যাগ করার সময় ফিরহাদের বক্তব্য, ‘কোভিড ও আমফান বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমফানের পর তছনছ হয়ে যাওয়া কলকাতাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা আমাদের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। কোভিডের সেই ভয়াবহ সময়েও আমরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছি এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে দিন-রাত এক করে কাজ করেছি। এখন মানুষকে সব রকম নাগরিক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যে কাজটা একসময় বুক ফুলিয়ে দাপটের সঙ্গে এই চেয়ারে বসে করতাম, আজ আর তা পারছি না। এই ঐতিহ্যবাহী চেয়ারে বসে অতীতে যাঁরা কাজ করে গিয়েছেন, ইতিহাসে যাঁদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মেয়রের সেই গরিমা বা মর্যাদা আমি আর ধরে রাখতে পারছি না।’