• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 7 November, 2026

মাস্কের সাম্রাজ্যেও ‘বিপ্লবের’ আঁচ, ট্রাম্প ডুবতেই ‘টুইটার’ নাম ছিনিয়ে নিতে ময়দানে স্টার্টআপ

বিশ্ব জুড়ে চলা প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ও টেক-জায়ান্টদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আবহের মাঝেই এবার বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে ইলন মাস্ক। মার্কিন মিড-টার্মে ট্রাম্পের পতনের আবহে এবার মাস্কের হাত থেকে 'টুইটার' (Twitter) এবং 'টুইট' (Tweet) ট্রেডমার্ক দুটি ছিনিয়ে নেওয়ার আবেদন জানাল মার্কিন স্টার্টআপ 'অপারেশন ব্লুবার্ড'। মাস্ক নাম বদলে প্ল্যাটফর্মের নাম 'এক্স' (X) রাখায়, বাতিল নামগুলি ব্যবহার করে 'twitter.new' নামে নতুন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম আনতে চায় এই স্টার্টআপটি।

মাস্কের সাম্রাজ্যেও ‘বিপ্লবের’ আঁচ, ট্রাম্প ডুবতেই ‘টুইটার’ নাম ছিনিয়ে নিতে ময়দানে স্টার্টআপ

US startup seeks to reclaim Twitter trademarks 'abandoned' by Musk’s X (Image: X/@politvidchannel)

বিশ্ব জুড়ে চলছে প্রতিবাদের মরশুম। একদিকে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) বিপ্লবের জেরে টলমল করছে একের পর এক সরকার, সদ্য সমাপ্ত মার্কিন মিড-টার্ম নির্বাচনে ধুলোয় মিশে গিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে আমস্টারডামে মাইক্রোসফট থেকে ফিনল্যান্ডে গুগলের মতো টেক-জায়ান্টদের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ছে ক্ষোভের আগুন। এবার সেই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী এবং একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে ওঠা ঢেউয়ের ধাক্কা লাগল খোদ ইলন মাস্কের (Elon Musk) সাম্রাজ্যে! ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মাস্কের হাত থেকে তাঁরই বাতিল করা ‘টুইটার’ (Twitter) এবং ‘টুইট’ (Tweet) ট্রেডমার্ক ছিনিয়ে নিতে আইনি লড়াই শুরু করল এক মার্কিন স্টার্টআপ।

অপারেশন ব্লু-বার্ডের হুঙ্কার

ভার্জিনিয়া-ভিত্তিক ওই স্টার্টআপের নাম ‘অপারেশন ব্লুবার্ড’ (Operation Bluebird)। তারা সরাসরি ইউএস পেটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিসে (USPTO) পিটিশন দায়ের করে দাবি জানিয়েছে, মাস্কের এক্স কর্পোরেশন (X Corp) যেহেতু ‘টুইটার’ নামটি আর ব্যবহার করছে না, তাই ওই ট্রেডমার্ক বাতিল করা হোক। স্টার্টআপটি ‘twitter.new‘ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং প্রতিযোগী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আনতে চলেছে, আর সেই কারণেই তারা ‘টুইটার’ নামটি নিজেদের নামে রেজিস্টার করতে চায়।

ঘরের শত্রুই যখন কাঁটা

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, বড় কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছেন স্টিফেন কোটস (Stephen Coates), যিনি একসময় খোদ টুইটারেরই ট্রেডমার্ক আইনজীবী ছিলেন! বর্তমানে তিনি ‘অপারেশন ব্লুবার্ড’-এর জেনারেল কাউন্সেল। তাঁর কথায়, বিষয়টা একদম “সোজাসাপ্টা”। স্টিফেনের দাবি, এক্স কর্পোরেশন আইনিভাবে টুইটার ট্রেডমার্কটি পরিত্যাগ করেছে এবং নিজেদের সমস্ত প্রোডাক্ট, পরিষেবা ও মার্কেটিং থেকে এই নামটিকে কার্যত নির্মূল করেছে।

৪৪ বিলিয়নের টুইটার বনাম এক্স

২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিপুল অর্থের বিনিময়ে টুইটার কিনেছিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। এরপর ২০২৩ সালে তিনি প্ল্যাটফর্মের নাম বদলে রাখেন ‘এক্স’ (X) এবং চিরচেনা নীল পাখির লোগোটিও সরিয়ে দেন। ২০২৩ সালে মাস্ক নিজেই এক্সে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা টুইটার ব্র্যান্ড এবং পাখিদের চিরতরে বিদায় জানাচ্ছেন। প্ল্যাটফর্মের ডোমেনও ‘twitter.com‘ থেকে ‘x.com‘-এ সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও এক্স কর্পোরেশন ২০২৩ সালে ট্রেডমার্কটি রিনিউ করেছিল, তবে মেধা-স্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইনজীবী জশ গারবেনের (Josh Gerben) মতে, মাস্কের জন্য এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। গারবেনের কথায়, যে নামটা ওঁরা আর ব্যবহারই করতে চায় না, সেই নামটা বাঁচাতে ওঁরা আদৌ টাকা খরচ করবে কি না, এটাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

একদিকে ট্রাম্পের শোচনীয় পরাজয়, অন্যদিকে মাইক্রোসফট-গুগলের মতো কর্পোরেট দৈত্যদের বিরুদ্ধে ইউরোপ থেকে এশিয়া জুড়ে চলা ডিজিটাল ও রাজপথের লড়াই। এই ডামাডোলের বাজারেই মাস্কের অহঙ্কারে মার্কিন স্টার্টআপের এই ধাক্কা নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।