• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 7 November, 2026

বিসমিল্লা খানের পৈতৃক বাড়ি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক, বিজেপিকে নিশানা করে কী বললেন অখিলেশ যাদব?

ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের পৈতৃক বাড়ি ভাঙাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের ঝড়। বারাণসীর এই বাড়ি ভেঙে সেখানে নতুন ভবন তৈরির

বিসমিল্লা খানের পৈতৃক বাড়ি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক, বিজেপিকে নিশানা করে কী বললেন অখিলেশ যাদব?

ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের পৈতৃক বাড়ি ভাঙাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের ঝড়। বারাণসীর এই বাড়ি ভেঙে সেখানে নতুন ভবন তৈরির পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে নিশানা করলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে শিল্প ও শিল্পীদের অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এক্স হ্যান্ডেলে অখিলেশ লেখেন, “যাদের জীবনে কখনও সানাই বাজেনি, তাদের কাছ থেকে আর কী আশা করা যায়। সংকীর্ণমনা বিজেপি কর্মীরা বরাবরই শিল্প ও শিল্পীদের আক্রমণ করে আসছে। তারা জানে, সৃজনশীলতাই সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি। প্রকৃত শিল্পই সহনশীলতার উৎস। ঠিক এই কারণেই তারা শিল্পকে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির পথে বাধা হতে দিতে চায় না। বরং নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে শিল্পকে ব্যবহার করতে চায়।”

উল্লেখ্য, বারাণসীতে ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের পৈতৃক বাড়িটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই ভবনের দ্বিতীয় তলায় তৈরি হবে কিংবদন্তি সানাইবাদকের স্মরণে একটি জাদুঘর। বিসমিল্লা খানের প্রপৌত্র গাজী আব্বাস জানিয়েছেন, প্রায় ২২৫ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হবে এই সংগ্রহশালা। সেখানে সংরক্ষিত থাকবে শিল্পীর ব্যবহৃত সানাই, পুরস্কার এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন। এর মধ্যে রয়েছে একটি রুপোর সানাইও।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত বিসমিল্লা খানের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাড়ির অন্য একটি অংশে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে সেগুলি জাদুঘরে সাজিয়ে রাখা হবে। দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়ে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এই কিংবদন্তি শিল্পীর ব্যবহৃত সামগ্রী ও স্মৃতিচিহ্ন দেখতে পারবেন।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। অভিযোগ উঠেছে, অতীতে বিসমিল্লা খানের পরিবারের সদস্যদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবার সেই প্রস্তাবে আগ্রহ না দেখানোয় গেরুয়া শিবির তাঁদের বাড়ি ও স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সব মিলিয়ে, বিসমিল্লা খানের পৈতৃক বাড়ি ভাঙা এবং সেখানে জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।