আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁও প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর। সেখানে প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তার জেরেই চা-বাগান এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাস করা শ্রমিকদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বেআইনি বলে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের পুজো অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, বিনা আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করা যাবে না। দখল বেআইনি হলেও কাউকে ইচ্ছামতো উচ্ছেদ করা যায় না। আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করতে হবে। ধর্নায় বসে থাকাদের সরিয়ে দিতে সরকার বুলডোজার নিয়ে যেতে পারে না।
এদিকে এই ল্যান্ড পোর্ট তোর্সা চা-বাগানের গোতাবাড়ি এলাকায় প্রস্তাবিত হয়েছে। তাই উচ্ছেদের আশঙ্কা করে ৮০টি পরিবার ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে ধর্নায় বসে আছেন। ওই পরিবারগুলির দাবি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা সেখানেই বসবাস করেন। এখানেই কাজ করে আসছেন। প্রকল্পের জন্য জমি ছাড়তে হলে তাঁদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন দিতে হবে। ২ নভেম্বর বুলডোজার নিয়ে তাঁদের সরানোর কাজ শুরু হয়। সেখানে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হয়। প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাতে ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ চা মজদুর সমিতি’র মামলায় বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, ‘জনস্বার্থে কোনও সরকারি প্রকল্প হলেও আইন মেনেই সব কাজ করতে হবে। এটাই ভারতের আইন। কেউ সেটা এড়িয়ে যেতে পারে না।’
অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, ঝুপড়িতে বসবাসকারী মানুষজনের কথা আদালত আগে চিন্তা করবে। কারণ তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো লোক পাওয়া যায় না। চা-বাগানের জমিতে ‘ল্যান্ড পোর্ট’ তৈরি করতে চায় রাজ্য সরকার। ওই প্রকল্পের জন্য সেখানকার শ্রমিক এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গ চা মজদুর সমিতির আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী শামিম আহমেদ এবং অম্বিয়া খাতুনও। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করেন, বাসিন্দারা বছরের পর বছর এই চা-বাগানের শ্রমিক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা সেখানেই থাকছেন। ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন দাবি করেছেন তাঁরা।
তারপর উভয়পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘কেউ ছোট ঝুপড়িতে থাকুন বা বড় প্রাসাদে, প্রত্যেকেরই সমান আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যাঁরা ঝুপড়িতে থাকেন, তাঁদের সুরক্ষার বিষয়টি আরও বেশি করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো অন্য কাউকে পাওয়া যায় না। ওই মানুষদের ভরসার একমাত্র জায়গা আদালত। যদি সেখানে কোনও বেআইনি দখলদার থেকে থাকেন, তবে তাঁদের সরানোর জন্য সরকারকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রকল্প নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। সেটা চলবে পরিকল্পনা অনুযায়ী। তবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালাতে হবে নিয়ম মেনে।’ রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাউকে উচ্ছেদের কোনও প্রশ্নই নেই।




