দু’ম্যাচে ন’গোল! নতুন মরসুমে দুরন্ত ছন্দে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। এ বার তাদের সামনে চেন্নাইন এফসি। শনিবার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আইএসএলের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। এক দিকে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া লাল-হলুদ শিবির, অন্য দিকে প্রথম চার ম্যাচে জয়ের মুখ না দেখা চেন্নাইন। ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal) আটকে মরসুমে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া চেন্নাইয়ের দল।
নতুন মরসুমে দুরন্ত শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারানোর পর ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ৫-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে তারা। অর্থাৎ, দুই ম্যাচে ন’গোল করেছে হাবাসের দল। কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠে নামার আগে আত্মতুষ্ট হতে নারাজ লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।
‘দলের প্রত্যেকে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে’
চেন্নাইনকে যথেষ্ট সমীহ করছেন তিনি। হাবাস বলেন, ‘আইএসএলের প্রতিটি ম্যাচই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। চেন্নাইন যথেষ্ট শক্তিশালী দল। ওদের দলে ভাল মানের ফুটবলার রয়েছে। কোচকেও আমি খুব ভাল করে চিনি। ঘরের মাঠ এবং প্রতিপক্ষের মাঠ— দু’জায়গাতেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করাই আমাদের লক্ষ্য। এই দলের উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দলের প্রত্যেক ফুটবলারই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে’। ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) গোল করার ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হলেও হাবাসের ভাবনায় শুধুই জয়। তাঁর কথায়, ‘আমরা কত গোল করতে পারব, সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমার ভাবনায় শুধু ম্যাচটা জেতা।’
চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না আনোয়ার আলি। তবে তাঁর অনুপস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো ফুটবলার দলে রয়েছেন বলে মনে করছেন ডিফেন্ডার দিয়েগো জিভুলিচ। তিনি বলেন, ‘আনোয়ার আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তবে ওর জায়গায় খেলার মতো যথেষ্ট ভাল মানের ফুটবলার আমাদের দলে রয়েছে’।
‘এএফসি ম্যাচের ভুল শোধরাতে হবে’
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ আল সিবের কাছে ০-২ গোলে হারের ধাক্কাও ভুলতে চাইবে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একসঙ্গে খেলতে গেলে ধারাবাহিকতা কতটা জরুরি, সেই শিক্ষা পেয়েছে দল।
জিভুলিচ বলেন, ‘রক্ষণভাগে যথেষ্ট ভাল মানের ফুটবলার রয়েছে। রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রেও আমরা বেশ ধারাবাহিক। তবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ ঘরের মাঠে শেষ দু’টি ম্যাচ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিপক্ষরা কত দ্রুত ছোটখাটো ভুলের মাশুল দিতে বাধ্য করতে পারে। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক— দুই প্রতিযোগিতাতেই সেই ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে’।
তবে প্রতিপক্ষের মাঠ হোক বা নিজেদের মাঠ, খেলার দর্শন বদলাতে চান না হাবাস।
ফাইনাল থার্ডে আরও কার্যকর ফুটবল চাই
চার ম্যাচ খেলে মাত্র একটি গোল করেছে চেন্নাইন। তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি হতাশ নন কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা। তাঁর মতে, গোলের সুযোগ তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে না। বরং শেষ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারাই ভোগাচ্ছে দলকে। ইস্টবেঙ্গলের শক্তিশালী দল নিয়েও সতর্ক তিনি। মিরান্ডা বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট— এই দু’টি দলের স্কোয়াড সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু আমি সব সময় বলি, ফুটবল মাঠেই খেলা হয়। সেখানে কে কেমন খেলছে, সেটাই আসল’।
গোলের সমস্যা মেটাতে কৌশলেও বদল এনেছেন মিরান্ডা। তাঁর কথায়, ‘বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচের পর আমরা সামান্য কিছু পরিবর্তন করেছি। গোয়া থেকে শুরু করে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের খেলা যাঁরা মন দিয়ে দেখেছেন, তাঁরা বুঝতে পারবেন, এখন বক্সের মধ্যে আরও বেশি ফুটবলারকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি’। ফাইনাল থার্ডে আরও সংযত এবং কার্যকর ফুটবল খেলতে চান তিনি।
তবে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) বিরুদ্ধে নামার আগে চেন্নাইন শিবির ধাক্কা খেয়েছে। মহেসন সিং খেলতে পারবেন না। কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখায় নির্বাসিত ইমানুয়েল ইমানিশিময়ে।গত এপ্রিল মাসে এই জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামেই চেন্নাইনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। এ বার ঘরের মাঠে সেই হারের বদলা নিতে মরিয়া চেন্নাইন। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক বিরতির আগে শেষ ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখাই লক্ষ্য লাল-হলুদের।আজ, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচ। সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক এবং আইএসএলের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি দেখা যাবে খেলা।
দেখুন:




