• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 6 November, 2026

জাপানকে উড়িয়ে এশিয়ার সিংহাসনে বসতে কোন নজির গড়ল ভারত?

বৃহস্পতিবার মোহালির অলিম্পিয়ান বলবীর সিং সিনিয়র আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিল জাপান

জাপানকে উড়িয়ে এশিয়ার সিংহাসনে বসতে কোন নজির গড়ল ভারত?

Image: X

শুরুটা হয় ধাক্কা খেয়ে। কিন্তু শেষটা দাপটে। প্রথম কোয়ার্টারেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল ভারত। জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল হরমনপ্রীত সিংদের। কিন্তু এক বার গোলের মুখ খুলতেই আর থামানো যায়নি ভারতকে। শেষ কোয়ার্টারে তিনটি গোল করে জাপানকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ বার পুরুষদের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতল ভারত। শুধু তাই নয়, পর পর তিন বার এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজিরও গড়ল তারা।

বৃহস্পতিবার মোহালির অলিম্পিয়ান বলবীর সিং সিনিয়র আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিল জাপান। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই কাজুমাসা মাতসুমোতোর দুরন্ত টোমাহক শটে এগিয়ে যায় তারা। আচমকা গোল হজম করে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যায় ভারতীয় দল।

গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন ভারতীয় খেলোয়াড়রা। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করলেও জাপানের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক কিশো কুরোদাকে টপকাতে পারছিলেন না তাঁরা। প্রথম দুই কোয়ার্টারে বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি ভারত। উল্টে জাপানের কড়া ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ে বার বার আটকে যাচ্ছিলেন ভারতীয় ফরোয়ার্ডরা।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় রোনাল্ডোর, শেষ ২৩ বছরের অধ্যায়! পর্তুগালের সাত নম্বর জার্সি তুলে রাখছেন সিআর সেভেন

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জাপান পর পর দু’টি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয়। তবে ভারতীয় রক্ষণ এবং গোলরক্ষক সেই আক্রমণ সামলে দেন। বিরতির সময় ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল ভারত।

তৃতীয় কোয়ার্টারেও গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ভারতকে। অবশেষে ৪২ মিনিটে সমতা ফেরান শিলানন্দ লাকরা। পেনাল্টি কর্নার থেকে হরমনপ্রীত সিং-এর প্রথম শট আটকে দেন জাপানের গোলরক্ষক। ফিরতি বল আদিত্য লালাগের কাছে যায়। তাঁর পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান লাকরা। ১-১ হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ভারত।

শেষ কোয়ার্টারে কার্যত ঝড় তোলে ভারতীয় দল। ৪৮ মিনিটে হার্দিক সিংহের দুরন্ত পাস থেকে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন দিলপ্রীত সিং। এর পর ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান যুগরাজ সিং। পরের মিনিটেই চতুর্থ গোলটি করেন বিবেক সাগর প্রসাদ। লাকরার প্রথম শট জাপানের গোলরক্ষক আটকে দিলেও ফিরতি বলে জোরালো শটে গোল করেন বিবেক।

ম্যাচের শেষ দিকে আরও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ভারত। তবে আর ব্যবধান বাড়েনি। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন ৪-১। জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বেও একই ব্যবধানে জিতেছিল ভারত।

আরও পড়ুন: ‘এই জার্সির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি’- বিদায়বার্তায় বললেন রোনাল্ডো

এই জয়ের সঙ্গে আরও একটি বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করলেন সহ-অধিনায়ক হার্দিক সিং। বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর কেরিয়ারের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মাঝমাঠে তাঁর নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ তৈরির দক্ষতা ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

ভারত এর আগে ২০১১, ২০১৬, ২০১৮, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল। এ বার ষষ্ঠ খেতাব জিতে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়াল তারা। পুরো প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থেকেছে ভারত। সাতটি ম্যাচে মোট ৪৬টি গোল করেছে তারা। দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত ১০টি গোল করে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। দিলপ্রীতের গোলসংখ্যা সাত।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, ফাইনালে চার গোল করলেও ভারতের এই জয় শুধু আক্রমণের সাফল্য নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতারও প্রমাণ। প্রথম ৪১ মিনিটে যে জাপান ভারতকে আটকে রেখেছিল, শেষ ১২ মিনিটে সেই জাপানের বিরুদ্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন হরমনপ্রীতরা। এশিয়ার হকিতে ভারত যে এখনও অপ্রতিরোধ্য, মোহালির ফাইনালে আরও এক বার তার প্রমাণ মিলল।

দেখুন: