• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 4 November, 2026

রবীন্দ্র-সুভাষ সরোবরে ফিরছে ছটপুজো? বড় ঘোষণা করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

এদিকে প্রায় ৯ বছর ধরে আদালতের নির্দেশে এই রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো বন্ধ আছে। পরিবেশ দূষণের জেরেই এই নির্দেশ। তবে পুরমন্ত্রীর

রবীন্দ্র-সুভাষ সরোবরে ফিরছে ছটপুজো? বড় ঘোষণা করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

Minister Agnimitra Paul Photo-ANI

এখন রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি সরকার। সেই সরকারের প্রথম দুর্গাপুজো মিটেছে। আর কালী-জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতিও তুঙ্গে উঠেছে। তারপরই ছটপুজো। চোরবাগানের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে, শহর থেকে জেলার পুকুর-নদীঘাটগুলি নজরদারি করছেন পুরমন্ত্রী। বুধবার পুর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে সঙ্গে নিয়ে গঙ্গাবক্ষ থেকে হাওড়া এবং কলকাতার ঘাটগুলি পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানেই রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে এবার ছটপুজো করতে দেওয়ার ভাবনার কথা জানান রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এমনকী বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর বলেও জানিয়েছেন। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছা আছে মুখ্যমন্ত্রীরও।

নভেম্বর মাসের ১৩ থেকে ১৬ তারিখ পালিত হবে ছটপুজো। সুতরাং হাতে এখন সময় কম। তাই গঙ্গা সংস্কার কার্যত চ্যালেঞ্জ কলকাতা পুরসভার কাছে। পরিবেশের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘ছটপুজোর জন্য কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। জল কোনওভাবেই যাতে দূষিত না হয় সেটার জন্য একগুচ্ছ গাইডলাইনও প্রকাশ করা হবে। গত সরকারের আমলে রাজনীতি করে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ করা হয়েছিল। এবার রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরেও ছটে অনুমতি দেওয়া হতে পারে। গঙ্গার ঘাটগুলিতে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় একগুচ্ছ গাইডলাইনও আছে।’

এদিকে প্রায় ৯ বছর ধরে আদালতের নির্দেশে এই রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো বন্ধ আছে। পরিবেশ দূষণের জেরেই এই নির্দেশ। তবে পুরমন্ত্রীর এই ভাবনাচিন্তার কথা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার? তবে পুরমন্ত্রীর বক্তব্য, পরিবেশ আদালতের সঙ্গে কথা বলেই সব কিছু করা হবে। যদিও বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বলে জানান পরিবেশবিদরা। আর সেই নির্দেশ অমান্য হলে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। এই বিষয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘গ্রিন ট্রাইবুনালের সঙ্গে আমরা কথা বলব। আমি নিশ্চিত, কোনও না কোনও পথ বেরিয়ে আসবে। আমরা ওখানে ময়লা করব না, করতেও দেব না।’

তাছাড়া রবীন্দ্র সরোবর জাতীয় সরোবর। বাজি পোড়ানোর বিষয়ে পুলিশের নির্দেশ রয়েছে। পরিবেশপ্রেমী সুভাষ দত্ত বলছেন, ‘আদালতের নির্দেশ আছে। এটা মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না।’ কিন্তু পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, ‘প্রত্যেকটি পুকুর-লেক-গঙ্গার ঘাটে ছটপুজো এবার হবে। পুকুরগুলিতে পেভার ব্লক দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হবে। সব ঘাটে থাকবে চেঞ্জিং রুম, বায়ো টয়লেট। সূর্যোদয়ের আগে ছটপুজোর নিয়ম আছে। তাই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। দিক নির্দেশে এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙানো হবে। ইমারজেন্সি নম্বর দেওয়া থাকবে। ভিড় এড়াতে ভলান্টিয়াররা খেয়াল রাখবেন। গত সরকারের আমলে রাজনীতি করে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হতো। এখন থেকে আর চলবে না।’