• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 4 November, 2026

স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে পায়চারী স্বামী, গঙ্গারামপুরে হাড়হিম ঘটনায় আলোড়ন

মাঝরাতে স্ত্রীর গলার নলি কেটে খুন করেন নিজেই। তারপর গোটা মুন্ডু ধর থেকে আলাদা করে মাঝরাতের দিকে চুল ধরে নিয়ে বেরিয়ে

স্ত্রীর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে পায়চারী স্বামী, গঙ্গারামপুরে হাড়হিম ঘটনায় আলোড়ন

Husband Arrest Wife Murder Case Photo-Representative

দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে বুধবার সকালে হাড়হিম করা ঘটনা সামনে আসতেই আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ল। কারণ স্ত্রীর কাটা মুন্ডু নিয়ে এলাকায় পায়চারী করলেন স্বামী বলে অভিযোগ। পরে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে একটি মন্দিরে বসেন সাধনায়। ভোরে লোকজন কম থাকায় বিষয়টি প্রথমে নজরে আসেনি। কিন্তু বেলা বাড়তেই মন্দিরে এই কাণ্ড দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ এসে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। এই ঘটনা দেখে চিৎকার-হট্টগোল শুরু করে দেন অনেকে। আর এই চিৎকারেই ঘুম ভেঙেছে বহু মানুষের। ঘটনার কথা জানতে গিয়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে চমকে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।

ওই ব্যক্তি নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে বহুদিন ধরে কাজ করছিলেন। কয়েক মাস আগে তাঁর চাকরি চলে যায়। প্রতিবেশীরা জানান, চাকরির অনেক চেষ্টা করেছিলেন। এমনকী ফেরত যেতে চেয়েছিলেন এনবিএসটিসি ডিপোতে। কিন্তু সেসব সম্ভব হয়নি। তার উপর আর্থিক চাপও বাড়ছিল। সবমিলিয়ে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এদিন স্ত্রীকে খুন করে তাঁর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ান স্বামী বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীরা সেই দৃশ্য দেখার আগে বাড়ির পাশে মন্দিরে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু নিয়ে বসে পড়েন তিনি। সকলের চিৎকারে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। একহাতে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু, অন্য হাতে কাটারি! স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম রিন্টু ঘোষ। বাড়ি গঙ্গারামপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায়।

মাঝরাতে স্ত্রীর গলার নলি কেটে খুন করেন নিজেই। তারপর গোটা মুন্ডু ধর থেকে আলাদা করে মাঝরাতের দিকে চুল ধরে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। চারদিক রক্তমাখা মুন্ডু নিয়ে ঘোরার পর ভোরবেলার দিকে একটি মন্দিরে এসে বসেন। সেখানে পরে তাঁর দুই ছেলেকেও দেখা যায়। এলাকার এই মন্দির খোলাই থাকে। সকালে লোকজনের চোখে পড়ে সেখানে রিন্টু বসে আছেন। কৌতূহলের বশে উঁকি দিয়ে দেখেন এক ব্যক্তি। কিন্তু ভিতরের দৃশ্য দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। তাঁর চিৎকারে অন্যান্য প্রতিবেশী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। মন্দিরের মধ্যে রিন্টুকে দেখে সকলেই তখন হতবাক। এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন সকলে। মন্দিরে তখন রক্ত ভর্তি। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ মন্দির থেকে ওই রিন্টুকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর স্ত্রীর দেহ উদ্ধার করতে তাঁদের বাড়ি যায় পরে।

মন্দিরের সামনে লোক জমা হতে দেখে কাটা মুন্ডু হাতে নিয়েই বাইরে বেরিয়ে আসেন রিন্টু। তা দেখে সকলে পিছিয়ে যান। পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। উদ্ধার হয়েছে রিন্টুর স্ত্রী সীমা সরকারের মুন্ডু এবং ধড়বিহীন দেহ। গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তকে আটক করে জেরা চলছে। তাঁর স্ত্রীর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।