• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 4 November, 2026

আল সিবের কাছে হার ইস্টবেঙ্গলের, ‘৩-৪ গোলে জেতা উচিত ছিল’, বললেন বিধ্বস্ত হাবাস

ম্যাচের পর সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ শোনা গেল স্প্যানিশ কোচের গলায়। বলেন, ‘স্কোরবোর্ডে যা দেখা যাচ্ছে তা মাঠের বাস্তব প্রতিফলন নয়। আমাদের প্রথমার্ধেই ২-০ বা ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ফুটবল এমনই—গোল না করলে কিছুই করার থাকে না।’

আল সিবের কাছে হার ইস্টবেঙ্গলের, ‘৩-৪ গোলে জেতা উচিত ছিল’, বললেন বিধ্বস্ত হাবাস

Photo: Representational Image

ফের একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেও সেগুলি নষ্ট করার খেসারত দিতে হল ইস্টবেঙ্গলকে (East Benga) , আন্তর্জাতিক মঞ্চে যার কোনো ক্ষমা নেই। মঙ্গলবার রাতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ ঘরের মাঠে ওমানের আল সিবের বিরুদ্ধে জিততে না পারলে যে বিপদ বাড়বে, তা ভালই জানতেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস (Antonio Lopez)। কিন্তু যুবভারতীতে শেষ পর্যন্ত জয় তো দূরের কথা, হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লাল-হলুদ (East Benga) বাহিনীকে।

ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে দু’টি গোল হজম করে ০-২ ব্যবধানে হারে তারা। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপ ডি-তে চার ম্যাচ খেলে মাত্র দু’পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে সবার নীচে চলে গেল ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচের পর সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ শোনা গেল স্প্যানিশ কোচের গলায়। বলেন, ‘স্কোরবোর্ডে যা দেখা যাচ্ছে তা মাঠের বাস্তব প্রতিফলন নয়। আমাদের প্রথমার্ধেই ২-০ বা ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ফুটবল এমনই—গোল না করলে কিছুই করার থাকে না।’

প্রতিপক্ষের তুলনায় তাঁর দল ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে, এই দাবি করে হাবাস বলেন, ‘ম্যাচের ৭৫-৮০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিপক্ষ কোনও সুযোগই পায়নি। সেখানে আমাদের ফুটবলাররা অন্তত ৬-৭টা গোলের সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশ করতে পারেনি। এই গোল করা এবং না করতে পারার ফারাকই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।’

আরও পড়়ুন: আগুন ঝরাতে পারলেন না শামি, তনয়ের ব্যাট ইডেনে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে দিল পৃথ্বীদের

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলে আল সিবের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন বিপিন সিং, দানি রামিরেজ, এডমন্ড লালরিন্ডিকারা। চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন বিপিন। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর পর অধিনায়ক মহম্মদ রশিদের সঙ্গে ওয়ান-টাচ পাস খেলে গোলের চেষ্টা করেন দানি। কিন্তু তাঁর নিচু শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৭ মিনিটে আনোয়ার আলি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়ে ইস্টবেঙ্গল (East Benga) । আনোয়ারের চোট প্রসঙ্গে হাবাস বলেন, ‘আনোয়ার দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ওকে তুলে নিতে হওয়ায় শুরুর দিকেই দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নষ্ট হয়ে যায়।’ তবে আনোয়ারের চোট কতটা গুরুতর, তা ডাক্তারদের পরীক্ষা ও রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট জানা যাবে বলে জানান স্প্যানিশ কোচ।

আনোয়ার বেরিয়ে গেলেও লাল-হলুদ আক্রমণের ঝাঁজ কমেনি। বিপিনের ক্রস থেকে দানির হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকেও সুযোগ পেয়েছিলেন দানি। এডমন্ডের পাস নিয়ন্ত্রণে রাখলেও তাঁর শট চলে যায় পোস্টের বাইরে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে অবশ্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আল সিব। ৪৯ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে অ্যাক্সেল মেয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৫৫ মিনিটে এডমন্ডের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সন্দীপ মান্ডির ক্রস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

৭৬ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের (East Benga) গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা দুরন্ত সেভ করে দলকে বাঁচান। ওমর আল মালকির কাছ থেকে কাছাকাছি দূরত্বে শট এলেও তা আটকে দেন তিনি। ফিরতি বলেও গোল করতে পারেননি আল সিবের ফুটবলার।

কিন্তু ৮৫ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। হাসান আল আজমির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত শটে গোল করেন অ্যাক্সেল মে। এগিয়ে যায় ওমানের দল।

সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে ফের ধাক্কা। ব্যবধান বাড়ান জাহির আল আগবারি। বাঁ দিক থেকে মেয়ের পাঠানো লম্বা বল ধরে লাচেনপাকে একা পেয়ে নিখুঁত শটে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।

আরও পড়ুন: রো-কো জুটিকে থামানোর ছক কষছে কিউই শিবির! শর্ট বলেও ভয় পায় না রোহিত, সতর্ক করলেন স্যান্টনার

এই হারের ফলে ইস্টবেঙ্গলের (East Benga) নকআউট পর্বে ওঠার অঙ্ক অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেল। চার ম্যাচে তাদের সংগ্রহ মাত্র দু’পয়েন্ট। অন্য দিকে, চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে আল সিব। সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আল শোর্তা। পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আল হুসেইন।

গ্রুপের প্রথম দুই দল পরের পর্বে যাবে। তাই বাকি দু’টি ম্যাচে জিতলেও ইস্টবেঙ্গলের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের হাতে থাকবে না। অন্য ম্যাচগুলির ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে হাবাসকে (Antonio Lopez)।

আগামী ২৪ নভেম্বর যুবভারতীতেই আল হুসেইনের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচ খেলবে ইস্টবেঙ্গল (East Benga) । গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৮ ডিসেম্বর ইরাকে আল শোর্তার বিরুদ্ধে। পরের পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এখন বাকি দুই ম্যাচেই জয় ছাড়া বিকল্প নেই লাল-হলুদের সামনে।

কিন্তু এত সুযোগ নষ্টের অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছে যেখানে, সেখানে আর জেতার আশা করবেই বা কি করে তারা? এই অভ্যাস না আইএসএলেও না ভোগায় তাদের।

দেখুন: